তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি, অভিনেত্রী শ্রীমতী ছন্দা চট্টোপাধ্যায় (Chhanda Chatterjee)। আজও তিনি অনন্যা। মঞ্চ হোক বা ক্যামেরা, স্বমহিমায় আজও দর্শকের দরবারে তিনি স্বতন্ত্র। বয়সের ভার এতটুকু ন্যুব্জ করতে পারেনি তাঁর শৈল্পিক দক্ষতা ও অভিনয় ক্ষমতা। একটা সময়ে যাত্রায় তাঁর নামের আগে 'টাইটেল' বসত 'মর্ত্যের ঊর্বশী'। ১৯৭০-৭১ সালে পেশাদার যাত্রা দলে বছরে তার রোজগার ছিল পাঁচ লাখ টাকা! যাত্রা দলের মালিকদের মধ্যে রীতিমতো লটারি চলত তাঁকে নিয়ে। আবার তিনিই উৎপল দত্ত'র বিখ্যাত নাটক 'টিনের তলোয়ার' এর 'ময়না'। সেই সাত বছর বয়সে অভিনয়ে হাতেখড়ি। প্রায় তিরাশি বছরে এসেও দীর্ঘ অভিনয় জীবনের সেই লিগ্যাসি বজায় রেখে মঞ্চে ফিরছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
অভিনয়ের হাতে খড়ির পর থেকে টানা সাত দশকেরও বেশি সময় জুড়ে ঠাকুরদাস মিত্র থেকে অহীন্দ্র চৌধুরী, পাহাড়ি সান্যাল, বিকাশ রায়, সরযূবালা, উত্তম কুমার, মলিনা দেবী, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কার সঙ্গে কাজ করেননি তিনি। অভিনয় করেছেন এই প্রজন্মের প্রায় সমস্ত প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সঙ্গেও। যাত্রায় অভিনয়ের সময় প্রয়োজনে চালিয়েছেন যাত্রা দলের বাসও। রেস্তোরাঁ 'অলিম্পিয়া'য় তাঁর সই চলত এককালে। থিয়েটারে গানের প্রসঙ্গ আসলে আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে তাঁর গাওয়া গান "ছেড়ে কলকেতা বন হব পগার পার"। মঞ্চে আজও তাঁর গানের পর দর্শকাসন থেকে ভেসে আসে এনকোর, এনকোর! ৮২ বসন্ত পেরিয়ে এসেও নাচে-গানে-অভিনয়ে অনন্ত তাঁর যৌবন।
একটা সময়ে যাত্রায় তাঁর নামের আগে 'টাইটেল' বসত 'মর্ত্যের ঊর্বশী'। ১৯৭০-৭১ সালে পেশাদার যাত্রা দলে বছরে তার রোজগার ছিল পাঁচ লাখ টাকা! যাত্রা দলের মালিকদের মধ্যে রীতিমতো লটারি চলত তাঁকে নিয়ে।
এমন জীবন্ত কিংবদন্তি শ্রীমতী ছন্দা চট্টোপাধ্যায়ের বহু অজানা, অচেনা গল্প নিয়ে ফের মঞ্চে আসছেন। 'উষ্ণিক' এর নতুন নাটক 'ইতি ছন্দা'। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইনকে এই খবর জানিয়েছেন এই নাটকের নাট্যকার ও নির্দেশক ঈশিতা মুখোপাধ্যায়। বাংলা থিয়েটারে সম্ভবত এই প্রথম কোনও অভিনেত্রী অভিনয় করবেন নিজ ভূমিকায়, বলবেন তাঁর ভিতর মনের কথা, নিজের মুখে। সঙ্গে এই বয়সেও মানুষ শুনতে পাবেন তাঁর বুলবুল কন্ঠের গান, অনবদ্য ব্ল্যাঙ্ক ভার্স, দেখতে পাবেন অনন্য সব নৃত্য ভঙ্গিমা, বিখ্যাত 'জাহানারা' নাটকের কোর্ট সিন। প্রথম অভিনয় আগামী ২২শে মার্চ, সন্ধ্যে ৬:৩০টায়, কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস মঞ্চে। নাট্যকার ও নির্দেশক ঈশিতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, এ নাটকে দর্শক তাদের প্রিয় শিল্পীকে খুঁজে পাবেন অন্য রূপে, অন্য রঙে। এই প্রযোজনা হয়ে থাকবে অমূল্য স্মৃতির এক মহাফেজখানা।
