৩ বছর পর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি বদলের পথে কর্নাটক। সিদ্দারামাইয়ার ইস্তফার পর তোড়জোড় শুরু হয়েছে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের। জানা যাচ্ছে, আগামী ৩ জুন অর্থাৎ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে পারেন বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তাঁর আগে শনিবার কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। কংগ্রেস সূত্রের খবর, বুধে শিবকুমারের সঙ্গে শপথ নিতে পারেন আরও ১০ জন মন্ত্রী। তবে নয়া মন্ত্রিসভায় কাদের কাদের জায়গা হবে বিশেষ করে সিদ্দারামাইয়ার পুত্র যতীন্দ্রর জায়গা হবে কিনা তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে বসেন সিদ্দা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিবকুমারও। ওই বৈঠকেই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, উত্তরসূরি হিসাবে শিবকুমারের নাম অনুমোদন করেন। বৈঠক শেষে সিদ্দার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন শিবকুমার। এরপরই লোকভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন সিদ্দা। যদিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। রাজ্যপালের সচিবের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন সিদ্দা।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, বুধে শিবকুমারের সঙ্গে শপথ নিতে পারেন আরও ১০ জন মন্ত্রী।
এরপর শুক্রবার দিল্লির ১০ জনপথে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে আরও একদফা বৈঠক হয়। রাহুল ও খাড়গের উপস্থিতিতে সেই বৈঠকে নিজের দাবি দাওয়া পেশ করেন সিদ্দারামাইয়া। এমএলসি পদে নিয়োগের জন্য নামের তালিকা পেশ করেন। এর পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় কাদের নিয়োগ করতে হবে সে তালিকাও দেওয়া হয় হাইকমান্ডকে। এছাড়াও, তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যে দপ্তরগুলি শিবকুমারের হাতে ছিল সেগুলি যাতে সিদ্দাপুত্র যতীন্দ্রকে দেওয়া হয় সেই দাবিও রাখেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। এই তালিকায় রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অনগ্রসর জাতি কল্যাণ, শিল্প বা জলসম্পদ দপ্তর। এদিকে শিবকুমারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করলেও হাই কমান্ডের তরফে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা হলেও সে প্রস্তাব খারিজ করেছেন সিদ্দা। জানিয়ে দিয়েছেন, কর্নাটক রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকতে চান তিনি। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়লেও কর্নাটকে কংগ্রেসের রাশ নিজের হাতে রাখতেই আগ্রহী সিদ্দারামাইয়া।
কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধে শিবকুমারের সঙ্গে আট থেকে দশজন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। সেই তালিকায় যতীন্দ্রর জায়গা হতে পারে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যসভা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে, ১৮ই জুনের পরে মন্ত্রিসভার বাকি সম্প্রসারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
