এখনও শুকোয়নি নেপালের মহা বিপর্যয়ের ক্ষত! এর মধ্যেই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের দেওয়া তথ্যানুসারে কম্পনের উৎসের গভীরতা ছিল ১০ কিমি। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। কোনও ক্ষতিরও খবর নেই।
বলে রাখা ভালো, তিব্বতে এমন কম্পন অবশ্য বিরল নয়। প্রতি বছরই এই অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। তবে এবার যেহেতু পরিস্থিতি ভয়াবহ, এমন ধরনের কম্পনের খবরে আশঙ্কা বাড়াটা অস্বাভাবিক নয়। যদিও এদিনের কম্পনে ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর ধ্বংসযজ্ঞে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ১২০৪ জনের। নিখোঁজ ৪২০০ জন। এখনও পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৬৫৪১ জনকে। ভয়ংকর দুর্যোগে কত বাড়ি, অফিস, সেতু, দোকান-বাজার ভেঙেছে, তার স্পষ্ট হিসাব এখনও প্রশাসনের কাছে নেই। মনে করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। ভঙ্গুর অর্থনীতি মধ্যে এত বড় বিপর্যয়ে কার্যত দিশাহারা বলেন্দ্র শাহ সরকার। এই অবস্থায় গতকাল ভারত ও চিনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল নেপাল। পরে অবশ্য সুরও নরমও করে তারা।
এদিকে এহেন পরিস্থিতিতে পশ্চিম সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস নেমেছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই এলাকায়। পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আসলে নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পা বানের অশনি সংকেত রয়েছে সিকিমেও! ভুটান পাহাড়ে দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে হ্রদের সংখ্যা! হিমবাহগলা জলের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হড়পা বানের আশঙ্কাও করছেন পরিবেশবিদদের একাংশ। সিকিমে বড়-ছোট মিলিয়ে একশোরও বেশি হিমবাহ হ্রদ রয়েছে। সেগুলির মধ্যে ১৬টি হ্রদকে অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
