অবসরকালে সঠিক অঙ্কে পেনশন পেতে মেনে চলতে হবে একাধিক নিয়ম। অন্তত ১০ বছরের চাকরির মেয়াদ পূরণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, চাকরি জীবনের ১০ বছর না হওয়া পর্যন্ত ইপিএফ থেকে টাকা তোলাও যাবে না। এই শর্তপূরণ না করা হলে অবসরকালীন ভাতা পেতে অসুবিধা হতে পারে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি প্রকল্প বা ইপিএফও। নির্দিষ্ট সময় পূরণের আগে টাকা তুললেও পড়তে হতে পারে সমস্যায়। যদিও ঠিক কোন ধরনের সমস্যা ইপিএফও তা স্পষ্ট করেনি।
ইপিএফও-র তরফে করা এক্স পোস্টে লেখা হয়েছে পেনশন পাওয়ার জন্য আবশ্যক ১০ বছরের ডেডলাইন। ইপিএফও জোর দিয়ে জানিয়েছে, অবসরের সময় সর্বোচ্চ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য সদস্যদের ব্যক্তিগত ইপিএফও অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নিয়মকানুন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। ইপিএফও-র তরফে বলা হয়েছে, 'অবসরের পর মাসিক পেনশন পেতে ১০ বছর সঞ্চয় জমা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। এর মাঝে টাকা তুলে নিলে তা আপনার চাকরির মেয়াদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে অবসরের পর মাসিক পেনশন পাওয়ার সুবিধা হারাতে পারেন।'
অবসর তহবিল সংস্থা ইপিএফও পরিচালিত কর্মচারী পেনশন স্কিম ১৯৯৫ (ইপিএস-৯৫)-এর আওতাভুক্ত পেনশনভোগীরা বর্তমানে চাকরিরত অবস্থায় জমানো টাকার উপর পেনশন নির্ধারণ করে থাকে। এই পেনশন পেতে অন্তত ১০ বছর কাজ করা বাধ্যতামূলক। আপাতত ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ ১ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এই পেনশনের অঙ্কটা বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন পেনশনভুগীরা। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও প্রস্তাব এসেছে। যদিও সরকার এখনও সে পথে হাটেনি। এরই মধ্যে ন্যূনতম পেনশন নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করা হল।
সদ্যই কেন্দ্র নতুন ‘এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম, ২০২৬’ ঘোষণা করেছে যা দেশের প্রায় আট কোটি ইপিএফও গ্রাহকের জন্য লাভদায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সহজ, ডিজিটাল এবং গ্রাহক-বান্ধব হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। নতুন নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মীদের বাধ্যতামূলক জমার বিষয়টি শুধুমাত্র বিধিবদ্ধ বেতনসীমা পর্যন্তই প্রযোজ্য, যা বর্তমানে মাসে ১৫,০০০ টাকা। এর অর্থ হল, বাধ্যতামূলক ইপিএফ জমার পরিমাণ ১৫,০০০ টাকার ১২ শতাংশ-ই থাকছে, অর্থাৎ মাসে ১,৮০০ টাকা। আইন অনুযায়ী নিয়োগকর্তারাও সমপরিমাণ অর্থ জমা দেবেন। আগে অনেক কর্মী কোম্পানির নীতি বা পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে উচ্চ বেতনের ওপর ভিত্তি করে পিএফ জমা দিতেন। নতুন নিয়মে এখন বাধ্যতামূলক এবং ঐচ্ছিক জমার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। তবে ১,৮০০ টাকার বেশি যে কোনও পরিমাণ অর্থ এখন ‘ঐচ্ছিক জমা’ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ আগে কর্মীদের বেতনের ১২ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা বাধ্যতামূলক ছিল। এক্ষেত্রে ১৫০০০-এর বেশি বেতন হলে কর্মী চাইলে ১২ শতাংশের কম অর্থ জমা করতে পারবেন। চাইলে বেশিও করতে পারবেন। তবে কোনওভাবেই সেটা ১৮০০ টাকার কম হবে না।
