বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে, পর্যাপ্ত কারণ দেখানোর পরও প্যারোল পান না বহু বন্দি। তবে খুন-ধর্ষনের মতো গুরুতর অপরাধ সত্ত্বেও গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের (Gurmeet Ram Rahim Singh)ব্যাপারই আলাদা। গত মে মাসে ৩০ দিনের ছুটি পর মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে ফের ২১ দিনের ছুটি মঞ্জুর হল ডেরা সচ্চা সৌদার ‘ধর্ষক বাবা’র। ২০১৭ সালে জেলবন্দি হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ৯ বছরে ১৭ বার জেল থেকে ছুটি পেলেন তিনি।
৫৭ বছরের স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০০২ সালে ডেরার রাজ্য কমিটির সদস্য রণজিৎ সিংয়ের খুনের মামলায় নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। পাশাপাশি আশ্রমের ভিতরে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৭ সালে নিম্ন আদালতে ২০ বছরের সাজা খাটছেন ডেরা প্রধান। বর্তমানে হরিয়ানার রোহতকের সুনিয়া জেল রয়েছেন তিনি। তবে খাতায় কলমে জেলবন্দি থাকলেও সরকারের বাদান্যতায় জেলের বাইরেই বেশি সময় কাটছে এই ধর্ষক খুনির। যা বিতর্কও কম হয়নি।
২০১৭ সালে জেলবন্দি হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ৯ বছরে ১৭ বার জেল থেকে ছুটি পেলেন রাম রহিম।
রিপোর্ট বলছে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে ২০ দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল রাম রহিমকে। এরপর এপ্রিলে ফের ২১ দিনের প্যারোল, আগস্ট মাসে ৪০ দিনের প্যারোলে ফের মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে আরও ৩০ দিনের ছুটিতে জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। এখানেই শেষ নয়, হরিয়ানা, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনের সময় দফায় দফায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এই অপরাধীকে। হিসেব বলছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ৩২৬ দিন প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফের ৪০ দিনের ছুটি পান এই অপরাধী। এরপর মে মাসে ৩০ দিনের ছুটির পর আরও ২১ দিনের ছুটি মঞ্জুর হল রাম রহিমের। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। যাবেন সিরসায় নিজের ডেরার।
এদিকে, ধর্মগুরুর ঘন ঘন প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বারবার নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের অভিযোগ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানে সিরসা এলাকায় রামরহিমের ডেরার প্রচুর সংখ্যক ভক্ত ওরফে ভোটব্যাঙ্ক থাকার জন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলির থেকে সুবিধা পেয়ে থাকেন।
