এখন থেকে ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে অত্যাধুনিক 'এইচ ১২৫' হেলিকপ্টার। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের পর যৌথভাবে এই হেলিকপ্টার তৈরির কারখানার উদ্বোধন করলেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে এই কপ্টার প্রস্তুত করবে দুই দেশের বেসরকারি সংস্থা এয়ারবাস হেলিকপ্টার ও টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম লিমিটেড।
জানা যাচ্ছে, বেসরকারি এই হেলিকপ্টার 'এইচ ১২৫'-এর যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করার শেষ ধাপ (ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন) সম্পন্ন হবে কর্নাটকের ভেমাগালে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের প্রথম দিকেই কর্নাটকের কারখানা থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে বেরোবে প্রথম 'এইচ ১২৫' কপ্টার। শুরুতে কারখানায় বছরে ১০টি করে কপ্টার তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ২০ বছরের মধ্যে ভারতে অন্তত ৫০০টি কপ্টার তৈরি করা হবে। শুধু তৈরি নয়, কপ্টার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে ভারতীয় সংস্থাকে।
ভবিষ্যতে দেশের সেনাবাহিনীতে এই কপ্টারের উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যার নাম ‘এইচ ১২৫এম’। অত্যাধুনিক এই কপ্টার রকেট-সহ নানা সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম।
'এইচ ১২৫' হেলিকপ্টারকে বলা হয়ে থাকে এভারেস্ট ক্লাইম্বার। কারণ ২০০৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে কপ্টারটি এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করে। এবং সেখানে চার মিনিট থেকে রেকর্ড তৈরি করে। এভারেস্ট (৮, ৮৪৮ মিটার) ডিঙোতে সক্ষম হলেও, সাধারণত কপ্টারটির ওড়ার গড় ক্ষমতা ৭,০১০ মিটার উচ্চতা। পাইলট ও ৬ জন সওয়ারিকে নিয়ে ঘণ্টায় এটি উড়তে পারে ২৫২ কিলোমিটার গতিতে। পাড়ি দিতে পারে ৬৬২ কিলোমিটার পথ। না থেমে এইচ ১২৫ আকাশে উড়তে পারে চার ঘণ্টা ২৭ মিনিট। উল্লেখ্য, এই কপ্টার বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহৃত হলেও ভবিষ্যতে দেশের সেনাবাহিনীতে এই কপ্টারের উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যার নাম ‘এইচ ১২৫এম’। অত্যাধুনিক এই কপ্টার রকেট-সহ নানা সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, ফরাসি সংস্থা এয়ারবাসের সঙ্গে টাটার জোট বাঁধার ঘটনা এই প্রথমবার নয়। বর্তমানে টাটার সঙ্গে মিলে দেশের বায়ুসেনার জন্য সি ২৯৫ পরিবহণ বিমান তৈরি করছে এয়ারবাস। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হতে চলেছে হেলিকপ্টার 'এইচ ১২৫'।
