সদ্যপ্রয়াত ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে অবশেষে শোকপ্রকাশ ভারতের। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়ে শোকপুস্তিকায় সই করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের বক্তব্য, সাধারণত এধরনের হামলা রাতের অন্ধকারে চালানো হয়। কিন্তু খামেনেইয়ের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতেই আর দেরি করেনি ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। তৎক্ষণাৎ ইরানের সুপ্রিম লিডারকে হত্যা করতে তৎপর হয় দুই দেশ। পরদিন অর্থাৎ রবিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল ঘোষণা করে তাদের অভিযানে খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরে ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর কথা জানায়। ৮৬ বছরের খামেনেই ১৯৮৯ সাল থেকে শাসকের ভূমিকা পালন করে আসছেন।
আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরবর্তী সুপ্রিম লিডার বেছে নিয়েছে ইরান। জানা যাচ্ছে, দেশটির তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের তরফে খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামানেইকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে ধুন্ধুমার যুদ্ধের সাক্ষী গোটা মধ্যপ্রাচ্য। প্রাথমিকভাবে, সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল ইরান। কিন্তু বর্তমানে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেপরোয়া আক্রমণ শুরু করেছে তেহরান। ইরাকের পাশাপাশি প্রতিবেশী কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান, জর্ডনে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ক্রমশ বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকেও শত্রুতে পরিণত করছে তেহরান। ইতিমধ্যে সৌদি আরব পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকাও। দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত দপ্তর এবং একটি মিশাইল লঞ্চার গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েল। যুদ্ধে শুধু ইরানেই এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষের। তথ্য বলছে, গত পাঁচদিন ইরান ৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২০০০ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানে ২০০০-এর বেশি নিশানায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
