ফের বিতর্কে এভারেস্ট। গুণগতমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় এবার জনপ্রিয় মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থা এভারেস্টের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ। 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া' (FSSAI)-র তরফে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হল এভারেস্ট ফুড প্রোডাক্টস এবং লালজি গোধু দ্বারা উৎপাদিত হিং। এভারেস্টের এগ কারি মশলা, চিকেন মশলা এবং গরম মসলার ক্ষেত্রেও নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে।
এফএসএসআই সূত্রের খবর, এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের নামী হিং-এর ব্র্যান্ডগুলির উপর নজরদারি শুরু করে সংস্থা। মুম্বই ও গুজরাটে এভারেস্টের কারখানা থেকে সংগ্রহ করা হয় পণ্যের নমুনা। সংগৃহীত হিং গুণগতমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় সেগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। জানা যাচ্ছে, নিয়ম অনুযায়ী হিংয়ে ন্যূনতম ৫ শতাংশ অ্যালকোহল-দ্রবণীয় নির্যাস থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায় তাতে রয়েছে ০ থেকে ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রয়োজনের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম কাঁচা হিং ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি লালজি গোধু-র কারখানা থেকে সংগ্রহ করা ৬ ধরনের কাঁচা হিং-এ ১৫ থেকে ৩২ শতাংশ স্টার্চ মিলেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী স্টার্চ সর্বোচ্চ থাকা উচিত ১ শতাংশ।
এভারেস্টের এগ কারি মশলা, চিকেন মশলা এবং গরম মশলাতে অনিয়ম ধরা পড়লেও সেগুলিকে এখনও নিষিদ্ধ করা হয়নি।
বিষয়টি সামনে আসতেই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে দুই সংস্থাকে। নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে সংস্থা কী কী পদক্ষেপ করছে তার বিস্তারিত জমা দিতে বলা হয়েছে। এমনকী বাজারে এই দুই সংস্থার নিম্নমানের সমস্ত পণ্য তুলে নিতে বলেছে এফএসএসআই নির্দেশিকা না মানা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে এভারেস্টের এগ কারি মশলা, চিকেন মশলা এবং গরম মশলাতে অনিয়ম ধরা পড়লেও সেগুলিকে এখনও নিষিদ্ধ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এভারেস্টের মশলা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য প্রথমবার নয়। ক্যানসার সৃষ্টিকারী যৌগ থাকার অভিযোগে নিজ দেশে এভারেস্টের মশলা নিষিদ্ধ করেছিল, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপাল ও আমেরিকা। মূল অভিযোগের তীর ছিল এভারেস্টের ফিস কারি মশলার দিকে। তবে ভারতে বহাল তবিয়তে চলছিল এই পণ্যগুলি। এবার এই সংস্থার হিং নিষিদ্ধ হল দেশে।
