বাংলায় মাটির তলায় অপরিশোধিত তেলের কথা আগেও এসেছে শিরোনামে। প্রচেষ্টা হয়েছে সেই তেল তোলার। পরীক্ষা-নিরিক্ষাও হয়েছে অনেক। দিনের পর দিন এই অশোকনগর নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। আজ, যখন সেই অশোকনগর থেকে প্রথমবার তেল তোলা হল, তখন বিজেপি সাংসদ ফের একবার মনে করিয়ে দিলেন রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনার কথা। পূর্বতন সরকারের আমলে কীভাবে বিপুল সম্ভাবনা চাপা পড়ে ছিল, সে কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, "দুর্নীতি, তোলাবাজি ও লাল ফিতার ফাঁস থেকে শিল্পকে মুক্ত করা দরকার। কর্মসংস্থান বাড়ুক, বিনিয়োগ আসুক, শক্তিশালী হোক পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি।"
অশোকনগরে বাণিজ্যিকভাবে ক্রুড অয়েল উৎপাদন শুরু হয়েছে শুক্রবার। বাইগাছির তেলক্ষেত্র থেকে হলদিয়ায় পাঠানো হয়েছে ১২০০ লিটার অপরিশোধিত তেল। ওএনজিসি-র তরফে জানা গিয়েছে বর্তমানে ওই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২০ কিউবিক মিটার ক্রুড অয়েল উৎপাদন হচ্ছে। কূপ থেকে জল মিশ্রিত অবস্থায় ওঠা তেল সেপারেটর ও ইটিপির মাধ্যমে পরিশোধনের পর রিফাইনারিতে পাঠানো হচ্ছে। আরও কয়েকটি কূপ খননের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। যা বাংলার শিল্প মানচিত্রে নয়া মাত্রা যোগ করেছে। শুধু তাই নয়, এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
এই তেল উত্তোলন শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে এক্স মাধ্যমে শমীক ভট্টাচার্য লিখেছেন, "এই সাফল্য প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের সম্ভাবনা ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রয়োজন শুধু সঠিক নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার।" বিজেপি রাজ্য সভাপতির কথায়, তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন অনুমোদন না দেওয়ায়, প্রশাসনিক কাজের ধীরগতিতে অশোকনগরের মতো সম্ভাবনাময় প্রকল্পও দিনের পর দিন থেমে থেকেছে। তিনি মনে করেন, এভাবেই বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সুযোগ হারাচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গ।
অশোকনগরে তৈলক্ষেত্রের বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে রাজ্যসভায় এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর কাছে তুলে ধরেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। এই বিষয়ে একাধিকবার প্রশ্ন করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। উত্তরও দিয়েছেন মন্ত্রী। আজ সেই অশোকনগরে তৈল উৎপাদন শুরু হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, "দুর্নীতি, তোলাবাজি ও লাল ফিতার ফাঁস থেকে শিল্পকে মুক্ত করা দরকার। কর্মসংস্থান বাড়ুক, বিনিয়োগ আসুক, শক্তিশালী হোক পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি।"
