মাসিক মোবাইল রিচার্জ প্ল্যান (Mobile Recharge Plan) ৩০ দিনের করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। সংসদে এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে প্রায় চুপ থেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্র। টেলিকম সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ আর্জি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
এয়ারটেল, জিও, ভি-এর মতো জনপ্রিয় টেলিকম সংস্থাগুলির রিচার্জ প্যাক থাকে ২৮ দিনের জন্য। তার ফলে ১২ মাস নয়, গ্রাহকদের রিচার্জ করতে হয় ১৩ মাসের জন্য। এই ইস্যুতে সংসদে সুর চড়িয়েছেন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তিনি বলেছিলেন, রিচার্জ শেষ হয়ে গেলে যেভাবে প্রিপেড গ্রাহকদের ইনকামিং পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যেভাবে ২৮ দিনের প্ল্যান বানিয়ে ১২ মাসে ১৩ বার রিচার্জ করতে বাধ্য করা হয়, সেগুলি আসলে বড়সড় আর্থিক প্রতারণা। বছরে একবার অতিরিক্ত রিচার্জ করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা।
কেবল রাঘব চাড্ডা নন, টেলিকম সংস্থাগুলির এহেন 'ফাঁদ' নিয়ে অতীতেও বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র পদক্ষেপ করেনি। তবে এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তবে গোটা বিষয়টিতে কেন্দ্র কার্যত আত্মসমর্পণ করে ফেলেছে। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, রিচার্জ প্যাক নিয়ে কেন্দ্র অপারেটরদের কোনও নির্দেশিকা দিতে পারে না। নিজেদের প্যাক কতদিনের জন্য কীভাবে বিক্রি করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে সংস্থাগুলির। ফলে ৩০ বা ৩১ দিনের রিচার্জ প্যাক চালু করতে তাদের নির্দেশ দিতে পারে না সরকার।
তবে সিন্ধিয়ার কথায়, কেন্দ্র আর্জি জানিয়েছে সংস্থাগুলির কাছে। মোবাইল রিচার্জের মেয়াদ মাত্র ২৮ দিন হওয়ায় ব্যবহারকারীদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তা বিবেচনা করে সরকার টেলিকম কোম্পানিগুলোকে ৩০ দিনের রিচার্জ প্ল্যান তৈরিতে উৎসাহিত করবে। তিনি জানিয়েছেন, অন্তত একটি রিচার্জ প্যাকে যেন ৩০ দিনের মেয়াদ থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।
প্রসঙ্গত, সংসদে দাঁড়িয়ে রাঘব চাড্ডা বলেছিলেন, “রিচার্জের মেয়াদ শেষ হলেই কেউ আর ফোন করতে পারে না। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ওটিপি বা জরুরি বার্তাও ফোনে পৌঁছায় না। কোনওভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।” এতকিছুর পরেও কি রিচার্জ প্যাকের চিত্রটা বদলাবে?
