দেশজুড়ে গ্যাসের আকাল (LPG crisis)। একটা সিলিন্ডার পেতে লম্বা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন আমজনতা। জ্বালানি সংকটে পেট্রল পাম্পেও ভিড়। এহেন পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন। উঠেপড়ে লেগেছে গুজরাট (Gujarat) সরকারও। গোবর-সহ অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প শুরু করছে তারা। তার জন্য ইতিমধ্যেই ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে ভূপেন্দ্র প্যাটেলের সরকার।
ডেয়ারি শিল্পের বর্জ্য থেকেই গ্যাস উৎপাদন হবে-মূলত এই লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে গুজরাট সরকারের নতুন প্রকল্প। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে ১০ টি বায়ো-সিএনজি প্লান্ট তৈরি করা হবে। ডেয়ারি ক্ষেত্রগুলি থেকে গোবর-সহ অন্যান্য সমস্তরকম বর্জ্য পদার্থ জড়ো করা হবে এই প্ল্যান্টগুলিতে। সেখান থেকে তৈরি হবে বায়োগ্যাস। যানবাহন এবং শিল্পক্ষেত্রে এই গ্যাস ব্যবহৃত হবে। আপাতত ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে নতুন প্রকল্পের জন্য। প্রত্যেক প্লান্টে দৈনিক ১ লক্ষ কিলো গোবর প্রক্রিয়াকরণ হবে বলে প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গোবর সংগ্রহের মাধ্যমে বহু মানুষের উপার্জনের পথও খুলে যাবে বলে মনে করছে গুজরাট সরকার। কেজিপ্রতি ১ টাকা দরে কৃষক এবং পশুপালকদের থেকে গোবর কেনা হবে। তাই গোবর বিক্রি করে অন্তত ৪৫০ পরিবারের আয় বাড়তে পারে বলে অনুমান। তবে গ্রামাঞ্চলে বহুদিন ধরেই গোবর গ্যাসের প্রচলন ছিল। বিশেষ করে যে সব বাড়িতে একাধিক গবাদি পশু রয়েছে বা পশুর খাটাল রয়েছে সেসব বাড়িতে এই বায়ো গ্যাস ব্যবহারের চল রয়েছে। গৃহপালিত বা বাণিজ্যিকভাবে পালিত পশুপাখির মল সহজলভ্য বলে এগুলোই বেশি ব্যবহার করা হয়। ফলে সরকারি প্লান্টের জন্য গ্রামবাসীরা গ্যাস সংকটের আবহে আদৌ বর্জ্য সরবরাহ করবেন কিনা, প্রশ্ন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গোবর থেকে রান্নার গ্যাস তৈরিতে উৎসাহিত করছে কেন্দ্র সরকারও। এ জন্য চালু হয়েছে ‘বায়ো-গ্যাস’ প্রকল্পও। সেই ২০১৭ সাল থেকেই এই প্রকল্প চালাচ্ছে কেন্দ্র। মোদি সরকারের আনা গোবর্ধন প্রকল্পেও গোবর থেকে গ্যাস উৎপাদন এবং জৈব সার উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে গত অর্থবর্ষেও অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। মূলত ডেয়ারি এবং সমবায়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালানো হয়।
