সোমবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পরই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। সেখানেই গতকাল বৈঠকে ঠিক কী আচরণ করেছেন কমিশনার তা ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
ঠিক কী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তাঁর কথায়, "তৃণমূলকে টার্গেট করা হচ্ছে। গতকাল জ্ঞানেশ কুমার আমাদের থ্রেট করেছেন। ভিতরে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। অভিষেকের দিকে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন উনি। চিৎকার করেছেন। আমি টেবিল চাপড়ে বললাম, চিৎকার করবেন না। আমরা আপনার দাস নই। কাল আপনি চেয়ারে নাও থাকতে পারেন।" মমতা আরও বলেন, "ওনারা আমাদের সম্মান দেখাবে সেটা আমি আশা করি না। অসম্মান করাটাই স্বাভাবিক। কারণ কমিশন একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে।"
দিল্লির চাণক্যপুরীর নয়া বঙ্গভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: তৃণমূলের অফিসিয়াল X হ্যান্ডেল
মমতার কথায়, "তৃণমূলকে টার্গেট করা হচ্ছে। গতকাল জ্ঞানেশ কুমার আমাদের থ্রেট করেছেন। ভিতরে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। অভিষেকের দিকে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন উনি। চিৎকার করেছেন। আমি টেবিল চাপড়ে বললাম, চিৎকার করবেন না। আমরা আপনার দাস নই। কাল আপনি চেয়ারে নাও থাকতে পারেন।"
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কী পদক্ষেপ করবে তৃণমূল? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। নাম বাদ গেলে তা নিয়ে লড়াই হবে। আমাদের কী রণকৌশল হবে, তা পরে জানানো হবে।" প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার কথাও জানালেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের অন্যান্য সাংসদ ও এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে নির্বাচন সদনে যান মমতা। প্রায় সোওয়া ১ ঘণ্টা বৈঠকের পর বেরিয়ে সাংবাদিক বৈঠক থেকে কমিশনকে একহাত নেন তিনি। বলেন, "আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এত দিনে এমন অহংকারী নির্বাচন কমিশন দেখিনি।’’কমিশনারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘‘কেন বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে? জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি। ওনার জমিদারের মতো আচরণ। এরকম দুর্ব্যবহার আমাদের সঙ্গে কেউ কখনও করেনি। আমাদের অসম্মান, অপমান করা হয়েছে।"
