সংসদে বাজেট আলোচনা চলাকালীন বেনজির দৃশ্য। রাজনৈতিক হিংসা ও বামপন্থীদের নৃশংসতা তুলে ধরতে গিয়ে টেবিলের উপর নিজের দুই নকল পা রাখলেন কেরলের বিজেপি সাংসদ সি সাদনানন্দ মাস্টার। ৩১ বছর আগের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'সংসদে সর্বদা গণতন্ত্র, গণতন্ত্র রব শোনা যায়, কিন্তু সেই গণতন্ত্রের ঢাক বাজানো কিছু ব্যক্তিই শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিরপরাধের দুই পা কেটে নিয়েছিল।'
সংসদে ভাষণ চলাকালীন টেবিলের উপর নিজের দুই কৃত্রিম পা রেখে বিজেপি সাংসদ সাদনানন্দ বলেন, ''এটা আমার দুই পা। আজ যখন আমি গণতন্ত্রের উপর ভাষণ শুনি তখন ভয়াবহ সত্য আমায় তাড়া করে। ৩১ বছর আগে এই সিপিএমের কিছু দুষ্কৃতী আমার উপর হামলা করেছিল। এবং আমার দুই পা কেটে নিয়েছিল। কোনও একসময় আমারও শক্তিশালী পা ছিল। কিন্তু আজ এই দুই কৃত্রিম পায়ের ভরসায় চলতে হয় আমাকে।''
সাংসদ বলেন, "বামেরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, আর আড়ালে বর্বরতা চালায়। গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও আদর্শের ভেক ধরা সিপিএমের আড়ালে রয়েছে এক ভয়াবহ নৃশংসতা। এদের সেই লাল সন্ত্রাসে লালরেখা টেনে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।"
সাংসদ আরও বলেন, ''১৯৯৪ সালের অভিশপ্ত সেই রাতে আমি আমার বোনের বিয়ের আলোচনা সেরে কাকার বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি ফিরছিলাম। বাস থেকে নামার পর কিছু লোক পিছন থেকে আমার উপর হামলা করে। রাস্তায় ফেলে সেই অপরাধীরা আমার দুই পায়ে পর পর কোপ বসায়। কেটে নেওয়া হয় আমার পা। নৃশংস সেই হামলার পর অপরাধীরা ইনক্লাব জিন্দাবাদ স্লোগানও দিচ্ছিল।'' কেরলে সিপিএমের ভয়াবহ রাজনৈতিক হিংসার কথা তুলে ধরে সাংসদ আরও বলেন, "সিপিএমের সেই নৃশংসতার কারণেই আমি আজ সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে পারি না।''
এরপরই বামেদের তোপ দেগে বিজেপি সাংসদ বলেন, "এটাই হল লাল সন্ত্রাসের আসল চেহারা। এরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, আর আড়ালে বর্বরতা চালায়। গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও আদর্শের ভেক ধরা সিপিএমের আড়ালে রয়েছে এক ভয়াবহ নৃশংসতা। এদের সেই লাল সন্ত্রাসে লালরেখা টেনে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বামপন্থী চরমপন্থা নির্মূল করা হচ্ছে কেবল বল প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সত্য, সাহস এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে।"
