চেন্নাইয়ে দাপট H5N1 ভাইরাসের। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ধার শয়ে শয়ে কাকের দেহ! যা ওই অঞ্চলে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জনসাধারণের উদ্দেশে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত কাক, হাঁস, মুরগির দেহ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। অথবা জৈব নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে গভীর গর্তে পুঁতে দিতে হবে।
সেই সঙ্গেই মৃত পাখি স্পর্শ করা থেকে জনসাধারণকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একান্তই স্পর্শ করতে হলে গ্লাভস ব্যবহার ও কড়া সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ রয়েছে। নতুন কোনও মৃত পাখি দেখতে পেলেই দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে অনুরোধও করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনায় বার্ড ফ্লু-এর চিহ্ন মেলার পর থেকেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয় পশুপালন মন্ত্রকের তরফে তামিলনাড়ুর মুখ্য সচিবকে চিঠি লিখে দ্রুত নজরদারির আর্জি জানানো হয়েছে। সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে সরকারের তরফে।
মানুষ এই অসুখে আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হতে পারে। এবং সেক্ষেত্রে মৃত্যুর হার সাধারণ মরশুমি ফ্লুয়েরর তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে।
কী এই H5N1?
এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের একটি স্ট্রেন। বন্য ও গৃহপালিত, দুই ধরনের পাখিকেই সংক্রমিত করে। এই অসুখই সাধারণ ভাবে 'বার্ড ফ্লু' নামে পরিচিত। দ্রুত পাখিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তা কার্যত মৃত্যুমিছিল সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এই ভাইরাসে কি মানুষের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে?
ছড়াতে পারে কি মানুষের দেহে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণ ভাবে পাখিরা এই স্ট্রেন থেকে আক্রান্ত হলেও মাঝে মাঝে সংক্রমিত পাখি বা দূষিত পরিবেশের সংস্পর্শে মানুষও আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত হতে পারে অন্যান্য পশুরাও। মানুষের মধ্যে বিরল হলেও তা গুরুতর হতে পারে। প্রসঙ্গত, মানুষ এই অসুখে আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হতে পারে। এবং সেক্ষেত্রে মৃত্যুর হার সাধারণ মরশুমি ফ্লুয়েরর তুলনায় অনেকটাই বেশি। আর এই কারণেই বিষয়টিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
