নয়ডার পর দিল্লি। আবারও খুঁড়ে রাখা গর্তে পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। দিল্লির জল বোর্ডের গভীর গর্তে পড়ে কমল নামে এক ব্যাঙ্ককর্মীর মৃত্যু হল। সারারাত ধরে উদভ্রান্তের মতো কমলকে খুঁজে বেড়িয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত গভীর গর্তে পড়ে থাকা অবস্থায় মেলে তাঁর দেহ। মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে দিল্লির বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির জনকপুরী এলাকায়। ওই এলাকায় কিছু কাজের জন্য গভীর গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল দিল্লির জল বোর্ড। শুক্রবার সেই গর্তেই পড়ে থাকতে দেখা যায় কমলের দেহ। পড়ে ছিল তাঁর বাইকটিও। হেলমেট এবং গ্লাভস পরেই বাইক চালাচ্ছিলেন কমল। কিন্তু অন্যদের গাফিলতিতে তাঁর প্রাণ গেল। কমলের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন তিনি। বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিলেন, ১০ মিনিটের মধ্যেই ফিরবেন। কিন্তু তারপর আর কমলের খোঁজ মেলেনি।
কমলের খোঁজে অন্তত ১২টি থানায় ঘুরতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। সারারাত ধরে খোঁজার পরেও কমলের সন্ধান মেলেনি। ফোনের নেটওয়ার্কের অবস্থান দেখেও কমল কোথায় রয়েছেন সেটা জানা যায়নি সারারাত। অবশেষে সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ গর্তে পড়ে থাকা অবস্থায় কমলের দেহ মেলে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, বাইক চালাতে গিয়ে ওই গর্তে পড়ে গিয়েছেন কমল। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঠিক কী ঘটেছিল জানার জন্য স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ।
কয়েকদিন আগে নয়ডায় এভাবেই এক গর্তে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ২৭ বছর বয়সি এক যুবকের। এবার দিল্লির বুকেই মর্মান্তিক পরিণতি। পরপর কেন এভাবে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে, সেই প্রশ্নে দিল্লির বিজেপি সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে আপ। দলের তরফে বলা হয়েছে, 'বাড়িতে বসে একজন মা তাঁর ছেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই মা কী করে জানবেন সরকার তাঁর ছেলেকে গিলে ফেলেছে?' আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজের তোপ, নয়ডার ঘটনা থেকে বিজেপি সরকার এতটুকু শিক্ষা নেয়নি। প্রত্যেক দিন স্রেফ মিথ্যে কথা বলে। তবে গোটা ঘটনায় দিল্লি সরকার টুঁ শব্দটি করেনি।
