রোম্যান্সের টানে টিন্ডারে হানিট্র্যাপের খপ্পরে মহিলা বিচারক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে হরিয়ানায়। প্রেমের ফাঁদে পড়ে ৫২ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন নিম্ন আদালতের ওই বিচারক। বিরাট অঙ্কের আর্থিক প্রতারনার শিকার হয়ে নিজের পরিচারিকাকে দিয়ে এফআইআর দায়ের করান মহিলা। ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করেছে দিল্লির এক আদালত।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের। অনলাইন ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয় ওই মহিলা বিচারকের। অভিযুক্ত নিজেকে এক গুপ্ত সরকারি দপ্তরের আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন। নিজের নাম বলেন অভিমুন্য বশিষ্ঠ। অল্প দিনেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতার রূপ নেয়। নির্যাতিতার দাবি অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত ওই মহিলা বিচারককে বিরাট মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। ফাঁদে পা দিয়ে অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে ৫২ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেন মহিলা। অল্প দিনেই বিচারক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছে। এদিকে হানিট্র্যাপের ফাঁদে পড়েছেন বুঝতে পেরে লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশের অভিযোগও জানাতে পারেননি তিনি।
অভিযুক্ত ওই মহিলা বিচারককে বিরাট মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। ফাঁদে পা দিয়ে অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে ৫২ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেন মহিলা।
শেষে মহিলা বিচারক নিজে অভিযোগ দায়ের না করে বাড়ির এক পরিচারিকাকে দিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করান। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়, অভিযুক্ত যুবক অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বিরাট অঙ্কের আর্থিক প্রতারণা করেছেন। তবে তদন্তে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে যত টাকার লেনদেন হয়েছিল সবটা মহিলা বিচারকের অ্যাকাউন্ট থেকে। পরিচারিকার অ্যাকাউন্ট থেকে নয়। এই অবস্থায় আদালত জানায়, 'যে মামলা দায়ের হয়েছে সেখানে পরিচারিকার কোনও ভূমিকা নেই। রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বলা হয়, আসল সত্য সামনে না এলে ওই মহিলা বিচারক পরিচারিকার নাম ব্যবহার করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি প্রেমঘটিত হওয়ার কারণে গোটা পরিস্থিতি বিব্রতকর হতে পারে, তবে তা তথ্য প্রমাণ গোপন করার কারণ হতে পারে না।'
তবে অভিযুক্ত যুবককেও রেয়াত করেনি আদালত। আর্থিক প্রতারণা মামলায় তাঁকে জামিন দিতে অস্বীকার করেছে আদালত। এমনকি অভিযুক্তের তরফে আদালতে অনলাইন কথোপকথনের যে চ্যাট প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র মহিলার বিচারকের অংশ দেওয়ায় তাঁকেও ভর্ৎসনা করা হয়েছে আদালতের তরফে।
