সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ হোক বা উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ হোক কিংবা জম্মু ও কাশ্মীর, মৌসম ভবনের পূর্বাভাস মিলিয়ে এবার লাগাতার বৃষ্টি চলছে দেশে। কখনও টানা বর্ষণে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তেমনই অবস্থা এখন জম্মু ও কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টির জেরে প্লাবিত একাধিক নদী। রাস্তাগুলি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। ধস নামায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু রাস্তা। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-দোকানপাট। কাঠুয়া জেলার জম্মু-পঠানকোট জাতীয় মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিত সামাল দিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জম্মুতে ১৯০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ১০০ বছরের মধ্যে আগস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর জেরে বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেকে বাড়িতে ঢুকে পড়েছে বন্যার জল। একটি সূত্রের দাবি, অন্তত আধ ডজন গাড়ি বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হয়েছে সেতু ভেঙে।
উল্লেখ্য, জম্মু-পঠানকোট জাতীয় মহাসড়কের উপর দু’টি সেতু রয়েছে। শনিবার সারা রাতের বৃষ্টিতে তারই একটি সেতু মাঝখান থেকে ধসে গিয়েছে। অন্যটির অবস্থাও ভালো নয়। বিপদ হত পারে যখন তখন। বিপদ এড়াতে দুটি সেতুতেই যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। কাঠুয়ার পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য, কাঠুয়ার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাজেশ শর্মার কথায়, "পুরনো সেতুটির অবস্থা খুবই খারাপ। নতুন সেতুটির অবস্থা নিয়েও সংশয় রয়েছে। আপাতত সতকর্তামূলক ব্যবস্থা হিসাবে দু’টি সেতু বন্ধ রাখা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, হাইওয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারেরা এসে পরীক্ষা করে দেখার পরেই সেতুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ক'দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ংকর রূপ দেখেছিল জম্মু ও কাশ্মীর। কিশ্তওয়াড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম শতাধিক। মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং তার জেরে বিপর্যয়ের কারণে বাতিল করা হয়েছে এবছরের মাছাইল মাতা যাত্রা।
