ফের বরফে বিপত্তি। ভারী তুষারপাতে কার্যত বিপর্যস্ত পুর্ব সিকিমের বহু এলাকা। ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার পর্যটক। তুষারে ঢাকা শেরাথাং, ছাঙ্গু এলাকায় পর্যটকদের উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী। পর্যটকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে খবর।
দিন কয়েক ধরে পুর্ব সিকিমে (Sikkim) ভারী তুষারপাত (Snowfall) হচ্ছে। শেরাথাং ও ছাঙ্গু হ্রদের আশেপাশে ৫৪১টি পর্যটক বোঝাই গাড়ির চাকা আটকে গেল পুরু বরফের চাদরে। 'ব্ল্যাক আইস' দেখা দেওয়ায় আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে গতকাল, মঙ্গলবার রাতভর ভারতীয় সেনা, পুলিশ ও সিকিম প্রশাসন অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে উদ্ধার করেছে। আজ, বুধবার তাঁদের গ্যাংটকে ফেরানো হয়। এর আগে সোমবার ছাঙ্গু উপত্যকা থেকে ফেরার পথে আটকে পড়ে পর্যটক বোঝাই প্রায় দেড়শোর বেশি গাড়ি।
রাস্তা থেকে বরফ সরাচ্ছেন পুলিশকর্মী।
অন্যদিকে নাথু-লা পাস থেকে ফেরার সময় আরও অন্তত দেড়শো গাড়ি আটকে পড়ে। প্রায় আটশো পর্যটককে উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের জওয়ানরা। মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর সিকিম প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের খারাপ আবহাওয়ায় ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণ আপাতত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। তুষারপাতের সময় যানবাহনের জন্য স্নো চেইন-সহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকে হঠাৎ ভারী তুষারপাত হয় পূর্ব সিকিমের শেরাথাং চেকপোস্ট ও পুলিশ স্টেশনের জওহরলাল নেহেরু রোড এলাকায়। ১৫ মাইল এবং ১৩ মাইলের মধ্যে থুলা খোলা এলাকা প্রায় একফুট গভীর বরফে ঢেকে যায়। ওই তুষারপাতে ৩২২টি পর্যটক বোঝাই গাড়ি আটকে পড়ে। অন্যদিকে, ছাঙ্গু উপত্যকার কাছে ২১৯টি পর্যটক বোঝাই গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। পুরু বরফের আস্তরণে ঢাকা রাস্তা ক্রমশ পিছল হয়ে যায়। ফলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল। ফলে সেসব গাড়িও আটকে যায়। সিকিম সরকারের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ২,৭৩৬ জন পর্যটক বোঝাই ৫৪১টি গাড়ি আটকে পড়েছিল।
কাজ করছে সেনাবাহিনী।
সড়ক গাড়ি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় সিকিম পুলিশ ও সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে নামে। রাতভর অভিযান চলে। সহযোগিতায় এগিয়ে আসে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন। সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের কর্নেল গৌরব রাঠোর জানান, দু'দিন থেকে উত্তর ও পূর্ব সিকিমে ভারী তুষারপাত চলছে। সোমবার ও মঙ্গলবার প্রচুর পর্যটক আটকে পড়েন। সেনা জওয়ানরা দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে পর্যটকদের উদ্ধার করে বেসক্যাম্পে নিয়ে যায়। সিকিম সরকারের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তরের কর্তারা পর্যটক এবং চালকদের উঁচু এলাকায় ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার আপডেট এবং রাস্তার পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
