১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজস্থানের অলওয়ারের বাসিন্দা রাহুল মিনার বিরুদ্ধে। দাবি, অলওয়ারে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার পর সে নাকি দিল্লিতে গিয়ে আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করে। ২২ বছরের রাহুলের ভয়ংকর কীর্তি দেখে স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। কিন্তু কীভাবে সে ধরা পড়ল পুলিশের জালে?
জানা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে সবথেকে বড় ভূমিকা নিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। বুধবার দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ১৫টি দল গঠন করে। তদন্তকারীরা প্রথমেই ওই আবাসন চত্বর এবং যে বাড়িটিতে নির্যাতিতা বসবাস করতেন, তার প্রবেশপথে অবস্থিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পরীক্ষা করেন। আর সেই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁরা নিশ্চিত হন, অভিযুক্ত কোন দিকে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গেই পুলিশ ফুটেজ থেকে সেই অটোটিকেও শনাক্ত করতে পারে, যেটায় চেপে রাহুল পালিয়ে যায় বলে দাবি। দ্রুত খুঁজে বের করা হয় চালককে। চালক পুলিশকে জানায়, সে অভিযুক্তকে একটি হোটেলে নামিয়ে দিয়েছিল। এই তথ্যের সূত্র ধরেই পুলিশ ওই হোটেলে পৌঁছায়। এবং এরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা।
অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ১৫টি দল গঠন করে। তদন্তকারীরা প্রথমেই ওই আবাসন চত্বর এবং যে বাড়িটিতে নির্যাতিতা বসবাস করতেন, তার প্রবেশপথে অবস্থিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পরীক্ষা করেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, আইআরএস কন্যার গলা টিপে ধরা হয় প্রথমে। তারপর ভারী কোনও জিনিস দিয়ে মাথায় মেরে অজ্ঞান করা হয় তাঁকে। ওই অবস্থাতেই ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। মোবাইলের চার্জার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে নির্যাতিতাকে। তারপর লকার খুলে টাকা গয়না নিয়ে, পোশাক পালটে পালিয়ে যায়। ১৫টি দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বুধবার দিল্লি থেকেই গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত।
উল্লেখ্য, আইআরএস আধিকারিকের বাড়িতে কাজ করত রাহুল। নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মাসখানেক আগে তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করেন কেন্দ্রীয় আধিকারিক। সেই ছাঁটাইয়ের জেরেই আধিকারিকের কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, এমনটাই অনুমান ছিল পুলিশের। কিন্তু কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বারবার অপরাধের প্রবণতা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।
