বৈসরণ উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল অর্থাৎ বুধবার। নারকীয় সেই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন ভারতীয়। এই তালিকায় ছিলেন অরুণাচলের বাসিন্দা বায়ুসেনার আধিকারিক কর্পোরাল তাগে হাইলিয়াং। তাঁর মৃত্যুর মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হল অরুণাচলের শান্ত শহর জিরোতে। সাহসী এই যোদ্ধার স্মৃতিস্তম্ভ শ্রদ্ধা জানালেন পরিবারের সদস্যদেরা। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
২০১৭ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন হাইলিয়াং। শ্রীনগর ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। হামলার মাত্র চার মাস আগে তিনি চ্যারো কামহুয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অল্প দিনের মধ্যেই অসমের ডিব্রুগড় পোস্টিং হওয়ার কথা ছিল তাঁর। তার আগে স্ত্রীকে নিয়ে পহেলগাঁওয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সেটাই ছিল হাইলিয়াংয়ের শেষ সফর। জানা যায়, ঘটনার দিন জঙ্গিরা জোর করে ওই বায়ুসেনা জওয়ানের পোশাক খোলে। এরপর তাঁর পরিচয়পত্র দেখে গুলি করে খুন করা হয়।
হামলার মাত্র চার মাস আগে তিনি চ্যারো কামহুয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অল্প দিনের মধ্যেই অসমের ডিব্রুগড় পোস্টিং হওয়ার কথা ছিল তাঁর।
সেদিনের সেই ভয়াবহতা আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে হাইলিয়াংয়ের পরিবারকে। এলাকার সাহসী যোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার ভিড় জমেছিল সুবানসিরি জেলার তাজাং গ্রামে। হাইলিয়াংয়ের স্মৃতিতে তাঁর ব্রোঞ্চের মূর্তি তৈরি করেছিলেন স্থানীয়রা। সেই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে হাইলিয়াংয়ের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্যদেরা। পাশাপাশি ছিলেন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারাও।
২২ এপ্রিল ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের নিশানা করে নরহত্যা চালিয়েছিল লস্করের শাখা সংগঠন 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'। মর্মান্তিক সেই ঘটনা (Pahalgam Terror Attack) প্রাণ কেড়েছিল ২৬ জনের। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সেদিন পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও, হাইলিয়াং পালিয়ে যাননি। বরং গোলাগুলির মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পথ দেখান। শেষে জঙ্গিদের গুলিতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
