পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতবাসীর হেঁসেলে। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়াতে হয়েছে। গ্যাসের সংকটও উপেক্ষা করার মতো নয়। শুক্রবার বেড়েছে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম। মহার্ঘ হয়েছে অটো এবং অন্যান্য যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজিও। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে পেট্রল-ডিজেলের নতুন দাম। কলকাতায় পেট্রলের নতুন দাম লিটারপিছু ১০৮.৭৪ টাকা। ডিজেলের দাম লিটারপিছু তিন টাকা বেড়ে ৯৫.১৩তে পৌঁছে গিয়েছে। সম্ভবত নির্বাচনের কথা ভেবেই প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর পথটা এড়িয়ে চলা হচ্ছিল। কিন্তু ভোট মিটতেই আমজনতার হেঁসেলে কোপ পড়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, সার্বিকভাবে গোটা বিশ্বের বাজারেই অশোধিত তেলের দাম বাড়ছে।
আসলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কার্যত গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজারেই পড়েছে। আর সেটার খেসারত দিতে হচ্ছে আমজনতাকেই। একাধিক প্রথম সারির দেশেও পেট্রল ও ডিজেলের দাম অনেকটা বেড়েছে। ভারতের অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশের অবস্থাও তথৈবচ। অন্তত তথ্য সেকথাই বলছে। বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য, বিভিন্ন দেশের পেট্রপণ্যের মূল্যের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেছেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের মূল্যবৃদ্ধি নগণ্যই।
ভোট মিটতেই বাড়ছে পেট্রল-ডিজেলের দাম।
হিসাব বলছে যুদ্ধ শুরুর পর আমেরিকাতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৪১ ও ৪৮ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়াতেও বৃদ্ধিটা উদ্বেগজনক। সেদেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো প্রথম সারির দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৩১ ও ৩৪ শতাংশ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ১৯ শতাংশ। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির সবাই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে যেমন প্রায় ৪১ শতাংশ দাম বেড়েছে। চিনে বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। পাকিস্তানে যুদ্ধের পর বৃদ্ধি পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ৫৫ শতাংশ।
সে তুলনায় ভারতের বাজারে প্রভাব অনেকটাই কম। ভারতে পেট্রপণ্যের দাম বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও, নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। যা কার্যত বন্ধ। ফলে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। সেটারই প্রভাব পড়ছে জ্বালানিতে।
