যুদ্ধবিরতি নিয়ে জল্পনার মাঝেই রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় ভয়ংকর হামলা ইউক্রেনের। মস্কোর আকাশ কার্যত ছেয়ে গেল শয়ে শয়ে ড্রোনে। এই হামলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন এক ভারতীয়। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দাবি করা হচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যে রাশিয়ার মাটিতে এটাই সবচেয়ে বড় হামলা ইউক্রেনের।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০০-এরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ভূপতিত করা হয়েছে। তারপরও বহু ড্রোন মস্কোর একাধিক জায়গায় আছড়ে পড়ে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে দুই দেশের। এর মাঝে দিন দুই আগে কিয়েভের উপর সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। সেই হামলার পর শুক্রবার প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপরই শুরু হয় ইউক্রেনের প্রত্যাঘাত। হামলার পর এক্স-এ এক ভিডিও পোস্ট করেছেন জেলেনস্কি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মস্কোর আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০০-এরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ভূপতিত করা হয়েছে। তারপরও বহু ড্রোন মস্কোর একাধিক জায়গায় আছড়ে পড়ে।
ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে দূতাবাস। সেখানে থাকা ভারতীয় শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সেখানকার সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তবে হামলায় নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, হামলার পর সোশাল মিডিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট লেখেন, 'এই যুদ্ধকে টেনে নিয়ে চলেছে রাশিয়া। আমাদের শহর ও জনপদগুলিতে লাগাতার হামলা করা হচ্ছে। তার জবাবে আমাদের এই প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ন্যায্য।' তিনি আরও বলেন, মস্কোর চারপাশে রাশিয়ার শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৫০০ কিলোমিটারেরও (৩১০ মাইল) বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে আমাদের ড্রোনগুলি।
উল্লেখ্য, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের সংঘর্ষবিরতি শেষ হয়েছিল গত মঙ্গলবার। নতুন করে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে শুরু হয়েছিল তৎপরতা। এসবের মাঝেই একে অপরের উপর হামলা শুরু করে দুই দেশ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। তাতে নিহত হন অন্তত ২৫ জন। এ বার প্রত্যাঘাত করল কিভ।
