shono
Advertisement
Shankaracharya

প্রশ্নের মুখে জ্যোতির্পীঠের শঙ্করাচার্য, মামলা সুপ্রিম কোর্টেও! কারা এই উপাধি পান? নিয়োগ কীভাবে হয়?

হিন্দু ধর্মীয় মতে, ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আদি শঙ্কর। সেই থেকে তাঁর ভাবধারা বহন করে চলেছে এই মঠগুলি। প্রতিষ্ঠাতা আদি শঙ্করের নাম অনুসারেই চারটি মঠের চার জন প্রধানের পরিচিতি।
Published By: Saurav NandiPosted: 02:32 PM Jan 21, 2026Updated: 04:09 PM Jan 21, 2026

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে চলতি মাঘ মেলায় মৌনী অমাবস্যার পুণ্যস্নানে অংশ নিতে পারেননি জ্যোতির্পীঠের শঙ্করাচার্য হিসাবে পরিচিত স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী! অভিযোগ, তাঁকে স্নানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে। এই আবহে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীকে নোটিসও পাঠিয়েছে প্রয়াগরাজের মাঘ মেলার কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, তিনি যে শঙ্করাচার্য হওয়ার দাবি করছেন, তার ভিত্তি কী? এর প্রেক্ষিতেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠছে— শঙ্করাচার্য উপাধি কীভাবে দেওয়া হয়? হিন্দুধর্মে এর গুরুত্বই বা কী?

Advertisement

হিন্দু ধর্মীয় মতে, ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আদি শঙ্কর। সেই থেকে তাঁর ভাবধারা বহন করে চলেছে এই মঠগুলি। প্রতিষ্ঠাতা আদি শঙ্করের নাম অনুসারেই চারটি মঠের চার জন প্রধানের পরিচিতি। তাঁরা চার জনই শঙ্করাচার্য নামে খ্যাত। আদি শঙ্করের বার্তা ভারত তথা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর এই চার শঙ্করাচার্য। দেশের সর্বত্রই নিজের ভাবধারা প্রচার করতে চেয়েছিলেন আদি শঙ্কর। তাই তিনি চার কোণে মঠ প্রতিষ্ঠার জন্য চারটি নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করেছিলেন। পূর্ব ভারতে আদি শঙ্করের ভাব প্রচারের ভার পড়ে পুরীর গোবর্ধনপীঠের উপরে। এ ছাড়া উত্তরে রয়েছে জ্যোতির্মঠ (উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায়), পশ্চিমে দ্বারকার সারদা মঠ এবং দক্ষিণে কর্নাটকের শৃঙ্গেরি মঠ।

জ্যোতির্পীঠের শঙ্করাচার্য হিসাবে পরিচিত স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী।

ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, শঙ্করাচার্য হওয়ার কিছু শর্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই সন্ন্যাসী (দণ্ডি সন্ন্যাসী) হতে হবে। ব্রাহ্মণ বংশোদ্ভুত এবং সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী হওয়া আবশ্যক। চার বেদ, বেদান্ত, পুরাণ, ছ'টি বেদাঙ্গে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। ব্রহ্মচার্য পালন ও সম্পূর্ণ সংসার ত্যাগ বাধ্যতামূলক। শঙ্করাচার্য হতে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচারও মেনে চলতে হয়। যেমন— সংসারত্যাগের প্রতীক হিসেবে মুণ্ডন, পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চিহ্ন হিসাবে পিণ্ডদান এবং রুদ্রাক্ষ ধারণ।

চার কোণে মঠ প্রতিষ্ঠার জন্য চারটি নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করেছিলেন। পূর্ব ভারতে আদি শঙ্করের ভাব প্রচারের ভার পড়ে পুরীর গোবর্ধনপীঠের উপরে। এ ছাড়া উত্তরে রয়েছে জ্যোতির্মঠ (উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায়), পশ্চিমে দ্বারকার সারদা মঠ এবং দক্ষিণে কর্নাটকের শৃঙ্গেরি মঠ।

তবে কেউ চাইলেও নিজেকে শঙ্করাচার্য ঘোষণা করতে পারেন না। এর জন্য নির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াও রয়েছে। শঙ্করাচার্য হতে গেলে বিভিন্ন আখড়ার প্রধানদের সম্মতি, আচার্য মহামণ্ডলেশ্বরদের অনুমোদন, প্রখ্যাত সাধু-সন্তদের সভার স্বীকৃতি এবং সর্বোপরি কাশী বিদ্বৎ পরিষদের সিলমোহর প্রয়োজন। এই সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরেই কাউকে শঙ্করাচার্য হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ, স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এই ধরনের কোনও স্বীকৃতিই পাননি। তাঁর গুরুর প্রয়াণের পর তিনি নিজেকে শঙ্করাচার্য হিসাবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু দেশের অন্য তিন মঠের শঙ্করাচার্যেরা তাঁকে পদে স্বীকৃতি দেননি। এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে। তার মধ্যেই এই বিতর্কে জড়ালেন স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement