পাটনার ১০ নম্বর সার্কুলার রোডের বাড়িতেই থাকবেন লালুপ্রসাদ যাদব ও রাবড়ি দেবী। কোনওভাবেই ওই বাংলো খালি করা হবে না। বারবার সরকারি নোটিস পাওয়ার পরও নিজেদের অবস্থানে অনড় বিহারের যাদব পরিবার। এতদিন বিহারের বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেত্রী হিসাবে ওই বাংলোতে থাকতেন রাবড়ি দেবী। কিন্তু ওই পদমর্যাদার কেউ অত বড় বাংলোর অধিকারী হতে পারেন না। তাই ওই বাংলো তাঁকে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাবড়ি দেবী কিছুতেই বাংলো খালি করতে নারাজ।
গত বছর বিহারে সরকার গঠনের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লালু পরিবারের। আরও একবার এরাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ। ক্ষমতা দখলের পরই পাটনার ১০ সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারকে। আরজেডির রাজনৈতিক তৎপরতার মূল কেন্দ্র ছিল ১০ সার্কুলার রোডের এই সরকারি বাংলো। রাবড়ি দেবীর নামে বরাদ্দ এই বাড়িই এবার খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিহারের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টের তরফে। এতদিন লালু পত্নী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর নামে বরাদ্দ ছিল বাংলোটি। ২ দশক ধরে ওই বাড়িতেই রয়েছেন রাবড়ি এবং লালু। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী লালু পরিবারের নয়া ঠিকানা হতে চলেছে হার্ডিং রোডে ৩৯ নম্বর সেন্ট্রাল পুল হাউস।
রাবড়িকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছে, এনডিএ সরকারের নতুন মন্ত্রী নন্দকিশোর শর্মাকে ওই বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছে। ১০ সার্কুলার রোডের ওই বাড়ি খালি করতে হবে রাবড়ি দেবীকে। কিন্তু রাবড়ি ওই বাংলো খালি করতে নারাজ। আরজেডির তরফে সাফ বলা হচ্ছে, কোনওভাবেই রাবড়ি বাংলো খালি করবেন না। তিনি সাফ বলে দিচ্ছেন, 'বুঝতে পারছি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সম্রাট চৌধুরী বড্ড লাফালাফি করছেন। কিন্তু আমাকে এই বাংলো নীতীশ কুমার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দিয়েছিলেন। কিছুতেই আমি এই বাংলো ছাড়ব না। তেমন হলে আমাকে পুলিশ এনে তুলে দিক।" সরকারি সূত্রে অবশ্য এখনই পুলিশি অভিযানের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।
আসলে লালু পরিবার ও আরজেডির কাছে ১০ সার্কুলার রোডের বাংলোটি ধরে রাখাটা প্রেস্টিজ ইস্যু। কারণ ওই বাড়িটি লালুর দল ও আদর্শের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওই বাংলো যদি হাতছাড়া হয়, তাহলে সেটা রাজনৈতিকভাবে বিরাট ধাক্কা হবে আরজেডির প্রধান পরিবারের জন্য।
