সিবিএসই-র মার্কিং সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় জুটেছিল 'দেশবিরোধী', 'ডিপ স্টেট'-জর্জ সোরেসের এজেন্টের তকমা। সেইসব পড়ুয়াদের সঙ্গে এবার কথা বললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোশাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও পোস্ট করে রাহুলের কটাক্ষমূলক উক্তি- 'আমার মতো দেশবিরোধী ১৭ বছরের পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতা।'
সিবিএসই-র নতুন অনস্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (ওএসএম) নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশের পর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলছেন। কেউ কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করছেন, আবার কেউ অন্যের উত্তরপত্র পাওয়ার দাবি করছেন। অনেক শিক্ষার্থী এমনকী দাবি করেছেন যে, তাঁদের উত্তরপত্রের কিছু পেজ পাওয়া যায়নি। বহু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক অভিযোগ জানিয়েছেন, স্ক্যান করা উত্তরপত্র ঝাপসা ছিল। কোথাও কোথাও উত্তর মূল্যায়নই করা করার হয়নি। আবার কোথাও নম্বর গণনায় ভুলও দেখা গিয়েছে। রিভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়াতেও সার্ভার সমস্যা ও পেমেন্ট গেটওয়ে বিভ্রাটের অভিযোগ ওঠে। এরকম একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে অনস্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি নিয়ে।
কিন্তু যেসব পড়ুয়া প্রশ্ন তুলছিলেন, তাঁদেরই সোশাল মিডিয়ায় দেগে দেওয়া হয়েছে দেশবিরোধী বলে। একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করার পর ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয় যে, তার রোল নম্বরের অধীনে সিবিএসই যে উত্তরপত্রটি আপলোড করেছে, সেটি তার নয়। বেদান্ত নামের ওই পড়ুয়াকেও তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতার ভিডিও পোস্ট করে রাহুলের দাবি, 'আমার সহকর্মী ‘দেশবিরোধী সোরোস এজেন্টদের’ সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হল। বেদান্ত ও তার বন্ধুরা মেধাবী ও সাহসী তরুণ ভারতীয়, যারা সিবিএসই এবং মোদি সরকারের কাছে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু উত্তর পাওয়ার বদলে তারা অপমান ও কটূক্তির শিকার হয়েছে।’
উল্লেখ্য, সিবিএসই-র প্রশ্নফাঁস নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বীকার করেছেন, "ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি সামনে এসেছে এবং তা সংশোধনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই নিয়ে আইআইটি মাদ্রাজ এবং আইআইটি কানপুর কাজ শুরু করেছে।" সিবিএসই নিজেও ভুল স্বীকার করে নিয়েছে। পদ্ধতিগত ভুল যে ছিল সেটাও মেনে শুধরে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে ওই সংস্থা।
