বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর-এর নামে ভোট লুটের অভিযোগ জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc)। পাশাপাশি নিট এবং সিবিএসই 'কেলেঙ্কারির' পর অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হবে ওই চিঠিতে।
দিল্লিতে হাই প্রোফাইল বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, একাধিক বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখা হবে। খাড়গে বলেন, "এসআইআর, ভোট লুট এবং নির্বাচন চুরির বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়েছি। খুব শীঘ্রই দেশের প্রধান বিচারপতিকে ওই চিঠি দেওয়া হবে। খাড়গে আরও বলেন, দুর্নীতির জেরে নিট এবং সিবিএসই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে একমত ইন্ডিয়া ব্লক। কংগ্রেস নেতা বলেন, "শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কারণ তিনি নিট ও সিবিএসই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী লক্ষ লক্ষ যুবকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।"
এদিন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক শেষে মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, আজকের বৈঠকে যুবসমাজ, প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা এবং একটি টেকসই যৌথ বিরোধী জোটের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জোটের সদস্যরা এখন থেকে জাতীয় রাজনীতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল ঠিক করতে প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠকে বসবেন। ইন্ডিয়া জোটের পরবর্তী বৈঠক বসবে আগামী ৮ আগস্ট। উল্লেখ্য, সামনেই সংসদের বাদল অধিবেশন। সেখানে শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধভাবে কৌশল ঠিক হবে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সভাপতি।
খাড়গে জোটবদ্ধতার কথা বললেও ভাঙনের শঙ্কায় ভুগছে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট! সেই ভয় নিয়েই সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে শুরু হয় জোটের বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ২৩টি দলের বিরোধী দলের নেতা এবং তাঁদের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, ওমর আবদুল্লা, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ সিংয়ের মতো নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। যদিও আগেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক বয়কট করেছে ডিএমকে। সিপিএম হাজির থাকলেও আগেই এই বৈঠক নিয়ে কড়া চিঠি দিয়েছে। নেই আপও। জোটে থাকলেও আসন নিয়ে কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ জেএমএমও।
উল্লেখ্য, বঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন ইন্ডিয়া জোটকে। যদিও বিধায়ক এবং সংসদরা যেভাবে দল ছেড়ে স্বতন্ত্র অবস্থান নিচ্ছেন, তাতে করে দল তৃণমূল তথা সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে।
