যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজে বিরাট কূটনৈতিক জয় ভারতের। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে হরমুজে ভারতের জ্বালানি জাহাজ চলাচলে সবুজ সংকেত ইরানের! শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে প্রবেশ করতে পারবে জ্বালানিবাহী জাহাজ। শীঘ্রই এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। ইরানের তরফে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার এক লিটার তেলও বাইরে যাবে না। যদিও চিন ও রাশিয়াকে হরমুজ ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে তেহরান। এতদিন ভারতকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে মোদি সরকারের তরফে বার্তা দেওয়া হলেও জ্বালানি গ্যাসের অভাব ও মূল্যবৃদ্ধি নজরে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত ফাথালি। সেখানেই হরমুজ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হরমুজে ভারতকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, "কারণ, ভারত আমাদের বন্ধু। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই আপনারা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।''
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। জানা গিয়েছে, এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনা হয় আরাগাছি এবং জয়শংকরের মধ্যে। এর আগেও বার দু’য়েক ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন জয়শংকর। বস্তুত গত দু'সপ্তাহ ধরে লাগাতার ব্যাক চ্যানেলে আলোচনা চলেছে দু’দেশের। মনে করা হচ্ছে তাতেই মিলেছে সাফল্য। আপাতত হরমুজের ওপারে আটকে থাকা জাহাজগুলি নিরাপদে ফেরানোর অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।
ইরান যুদ্ধে শুরু থেকেই ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান নিয়েছে। অন্তত প্রকাশ্যে। কিন্তু ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার অদূরে ইরানের রণতরীতে মার্কিন হামলার পর ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে আবার হরমুজেই আক্রান্ত হয় ভারতীয় পণ্যবাহী একটি থাই জাহাজ। তাতে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুও হয়। তারপরই মোদি সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তৎপরতা বাড়ায়। সেটারই সুফল মিলল। এর ফলে দ্রুত দেশের জ্বালানি সমস্যা মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
