ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে গত শুক্রবার বেআইনি ঘোষণা করেছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। খারিজ করেছে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের উপরে তাঁর বসানো যাবতীয় শুল্ককে। এই পরিস্থিতিতে বণিকমহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি থমকে যাবে না তো? সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈঠক স্থগিত হয়ে যাওয়ায়।
সোমবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আমেরিকায় বৈঠকে বসার কথা ছিল দু'দেশের প্রতিনিধিদের। তিন দিন ধরে সেই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দু'দেশের মধ্যে যে বাণিজচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা শীঘ্রই, তারই কিছু শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে এখন। আরও কিছু খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল ভারত এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ওই বৈঠক বাতিল করা হয়। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে দু'দেশের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো না হলেও, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায় ভালো করে খতিয়ে দেখে সব দিক পর্যালোচনা করতে চাইছে দু'দেশই। শুধু আদালতের রায়ই নয়, ট্রাম্পও কিছু পদক্ষেপ করেছেন পরে। প্রথমে তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য ১০% শুল্ক বসানোর কথা বলেছিলেন। পরে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, শুল্ক বাড়িয়ে ১৫% করবেন তিনি। আগামী দিনে আরও শুল্ক বসানোর পথও খুঁজবেন। যদি তেমনটা হয়, সেক্ষেত্রে বাণিজ্যচুক্তিতে কী কী পরিবর্তন হতে পারে, তা-ই খতিয়ে দেখতে চাইছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।
প্রসঙ্গত, শনিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে যে রায় দিয়েছে, তা তারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রায়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা-ও তাদের নজরে ছিল। বিবৃতিতে বাণিজ্য মন্ত্রক বলেছে, “মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে। এই সমস্ত বিষয়গুলির কী প্রভাব হতে পারে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”
