শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। সে দেশে 'ভারতবিদ্বেষ' হয়ে উঠেছে পাকিস্তানপন্থী কট্টরপন্থীদের হাতিয়ার। যদিও মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ভারত-বাংলাদেশ সামরিক যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার এ কথা জানালেন ভারতের স্থলসেনা প্রধান জেনরেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। এর পরেও প্রশ্ন উঠছে, 'সেভেন সিস্টার্স' নিয়ে ক্রমাগত হুঁশিয়ারির পর কী পদক্ষেপ করবে ভারতীয় সেনা? বাংলাদেশি সেনার অবস্থানই বা কী?
এদিনই সেনাপ্রধান পাকিস্তানকে হুঙ্কার দেন, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানে ঢুকে মরণকামড় বসাতে প্রস্তুত ছিল। মনে করান ১৯৭১-এর যুদ্ধের কথা। ইসলামাবাদকে সতর্ক করে জানান, অপারেশন সিঁদুর এখনও জারি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দিলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। একাত্তরের যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠলে এসে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। যে মুক্তিযুদ্ধকে, পদ্মাপাড়ের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদানকে মুছে ফেলতে পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মেলাচ্ছে ইউনুস সরকার।
দ্বিবেদীর যুক্তি হল অন্তর্বর্তী সরকার বেশি দিনের নয়। তিনি বলেন, "যদি সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার থাকে, তারা যে পদক্ষেপ করছে তার মেয়াদ কতদিন? চার-পাঁচ বছর না কি চার পাঁচ মাস? সেটা থেকেই আমাদের বুঝতে হবে তার যে পদক্ষেপ করছে তার প্রেক্ষিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন আছে, না কি নেই।’’ এর পরেই তিনি জানান যে বাংলাদেশি ফৌজের সঙ্গে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যোগাযোগ রয়েছে। তারা ভারতবিরোধী পদক্ষেপ করছে না। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওখানে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলাম। বিভিন্ন স্তরে কথা বলেছেন তাঁরা। আমার সঙ্গে ওঁদের (বাংলাদেশ) সেনাপ্রধানের যোগাযোগ রয়েছে। নৌসেনা প্রধান এবং বায়ুসেনা প্রধানেরও তাঁদের স্তরে কথা হয়েছে। যাতে কোনও স্তরেই কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’’
এখানেই না থেমে বাংলাদেশ সেনা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন,‘‘আজকের দিনে ওদের তিন বাহিনী (বাংলাদেশ স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) যে পদক্ষেপ করছে তা ভারত বিরোধী নয় কোনও ভাবেই।’’ উভয় সেনার মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘‘ওদের অফিসারেরা এখানে প্রশিক্ষণের জন্য আসেন, আমাদের অফিসারেরাও যান।’’
ভারতের সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সেনার প্রশংসা করলেও শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক বদল এসেছে। একদিকে যেমন হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, সংখ্যালঘু নির্যাতন, দূতাবাসে হামলায় ভারতবিদ্বেষ বুঝিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার, তেমনই পাকিস্তানের সঙ্গে সর্বস্তরে সম্পর্ক মজবুত করছে ঢাকা। বাদ পড়ছে না সামরিক সম্পর্কও। এর মধ্যে রয়েছে দু’দেশের সেনা আধিকারিকদের ঘন ঘন বৈঠক, যৌথ যুদ্ধমহড়া। এমনকী পাকিস্তানের থেকে চিনের তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও কিনতে চলেছে বাংলাদেশ। এখন দেখার কোন দিকে গড়াবে জল?
