প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের পরই ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল (Israel Iran War)। যা নিয়ে দেশের অন্দরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মোদিকে বারবার কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রুভেন বলেন, “মোদির সফরের পরই যে তেহরানে অভিযান চালানো হবে, তা আগে থেকে জানা ছিল না। তিনি ইজরায়েল ছাড়তেই হঠাৎ করেই আমাদের কাছে আদর্শ সুযোগ চলে আসে। মোদির সফরের সময় আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের অভিযান নিয়ে আমরা কেউই জানতাম না।" তিনি আরও বলেন, "মোদির সফরের প্রায় দু'দিন পর ইরানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।"
এদিকে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের বক্তব্য, কোনও দেশের সামরিক অভিযানের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থাকে। থাকে সুনিপুণ নীল নকশা। কোনও দেশ আকস্মিতভাবে অন্য কোনও দেশে হামলা চালায় না। ইজরায়েলের পার্লামেন্ট কেনেসেটে দাঁড়িয়ে মোদি বলেছিলেন, "ভারত ইজরায়েলের পাশে সব সময় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আগামী দিনেও তেল আভিভকে সমর্থন করবে। " বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদির সমর্থন কাঁধে নিয়ে ইজরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবেই ইরানে হামলা চালিয়েছে। আবার আরও একটি অংশের বক্তব্য, ইজরায়েলের এই অভিযান সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল ভারত। হামলার দিন কয়েক আগেই ইরানের ভারতীয় দূতাবাস একটি বিবৃতি জারি করেছিল। সেখানে তারা ভারতীয়দের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ইরানে হামলা এবং ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে এখনও পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে একটি বাক্যও খরচ করেনি মোদি সরকার।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ইরানে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এই হামলাকে সতর্কতামূলক অভিযান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে তেল আভিভ। এরপরই পালটা কুয়েত, বাহারিন, আরব আমিরশাহীর মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায় ইরান। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মধ্যরাতে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে হামলায় মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। ট্রাম্পের এই দাবির পরই রবিবার ভোরে খবরটি নিশ্চিত করে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। তারা জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহিদ হয়েছেন।
