আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ভারতে পা রাখলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বুধবার রাতে ভারতে এসেছেন তিনি। দু'দিনের কর্মসূচি রয়েছে আরাঘচির। জানা গিয়েছে, মিনাব ১৬৮ নামে এক বিশেষ বিমানে ভারতে পা রেখেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন হামলায় মিনাবের স্কুলে ১৬৮ ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ করেই এই নাম রাখ হয়েছে বিমানের। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে আরাঘচির এই ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আগামী বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দিল্লিতে ব্রিকস দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলন রয়েছে। যেহেতু চলতি বছর ব্রিকসের সভাপতি ভারত, তাই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সভাপতিত্বে চলবে দু'দিনের সম্মেলন। সেখানে অংশ নিতেই ভারতে পা রেখেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তাঁর বার্তা, 'ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেওয়া ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই।' ভারত এবং ইরানের পতাকার ইমোজিও পাশাপাশি দেন এই বার্তায়।
আমেরিকার সঙ্গে আপাতত সংঘর্ষবিরতি চলছে ইরানের। কিন্তু তৈল ধমনী হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে জটিলতা এখনও অব্যাহত। যুদ্ধ শুরুর পর অবশ্য ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ পেরতে বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল তেহরান। সেসময়ে আরাঘচি ঘোষণা করেছিলেন, হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। ইরানের সঙ্গে যে কয়েকটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই বন্ধু দেশের তালিকায় চিন, রাশিয়া, পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে ভারতও। খানিকটা ঘুরপথে হলেও জ্বালানিবাহী একের পর এক জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে ভারতে এসেছে।
সংঘর্ষবিরতি আপাতত থাকলেও সেটার ভবিষ্যৎ খুবই দুর্বল, এমনটাই মত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। একের পর এক শান্তি প্রস্তাব খারিজ করছে ইরান-আমেরিকা দুপক্ষই। এহেন পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে আমেরিকার উপর চাপ বাড়াতে চাইবেন আরাঘচি, এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। যদিও ব্রিকসের তরফ থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে এখনও পর্যন্ত কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। এবার সেই বার্তা যেন দিতে পারে আমেরিকার 'শত্রু' দেশগুলি নিয়ে তৈরি জোটটি, এমনটাই চাইছে তেহরান।
