কেকেআর ১৯২/৪ (অঙ্গকৃশ ৭১*, রিঙ্কু ৪৯)
আরসিবি ১৯৪/৪ (বিরাট ১০৫*, কার্তিক ৩/৩২)
৬ উইকেটে জয়ী আরসিবি
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মন্থর ব্যাটিং। তার জেরেই প্লে অফের পথ ফের কঠিন করে ফেলল কেকেআর। টানা চার ম্যাচ জিতে বুধবার আরসিবির বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে বেশ ভালো লড়াইও দিল কেকেআর। কিন্তু দিনের শেষে নিট ফল শূন্য। বিরাট কোহলির দুরন্ত সেঞ্চুরির কাছে পরাস্ত কেকেআর। পয়েন্ট না পেয়েই মাঠ ছাড়তে হল রিঙ্কু সিংদের। আপাতত কেকেআরের প্লে অফে ওঠার রাস্তাটা আরও কঠিন হল।
বৃষ্টিতে মাঠ ভিজে থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পরে টস হয়। রাত পৌনে নটায় ম্যাচ শুরু হয় রায়পুরে। কিন্তু প্রথম থেকেই এদিন কেকেআরকে ভোগাল ব্যাটিং। মারকুটে মেজাজে শুরু করেছিলেন ফিন অ্যালেন। মাত্র ৮ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান। কিন্তু উলটোদিকে নাইট অধিনায়ক রাহানের সেই পরিচিত ব্যাটিং। ১৩ বলে রাহানের সংগ্রহ ১৯ রান। অধিনায়কের দেখানো পথেই এদিন হাঁটলেন ক্যামেরন গ্রিন। একটা সময়ে পাঁচ বল খেলে মাত্র দুটি রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন অজি তারকা। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৩২ রান করে আউট হয়ে গেলেন।
শেষ পাঁচ ওভারে হাতে উইকেট থাকা সত্ত্বেও কেকেআর করল মাত্র ৫১ রান। অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ৭১ রানের ইনিংস খেললেন। কিন্তু উলটো দিকে রিঙ্কু সিং সেভাবে ঝড় তুলতে পারলেন না। তাঁর সংগ্রহ ২৯ বলে ৪৯ রান। তাই হাতে উইকেট থাকা সত্ত্বেও নাইটদের রান দুশো পেরল না। ওই পাঁচ ওভারেই ম্যাচের রাশ চলে গেল আরসিবির হাতে। ১৯৩ রানের টার্গেট খানিকটা কঠিন হলেও আরসিবির পক্ষে অসম্ভব একেবারেই নয়। ১৫ ওভার পর্যন্ত প্রায় একই গতিতে এগিয়েছে দুই দলের ইনিংস। ১৬তম ওভারে সুনীল নারিন বল করতে এলেন, উইকেট পেলেন, কিন্তু ম্যাচ বেরিয়ে গেল নাইটদের হাত থেকে।
এদিন আরসিবি ব্যাটিংয়ের পুরোটাই কোহলিময়। কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসেও তাঁর রানের খিদে এতটুকু কমেনি। ওপেন করতে নেমে একেবারে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করলেন। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটা (৮) কিং কোহলির নামেই ছিল। বুধবার আরও একটা শতরান হাঁকিয়ে রেকর্ডের উপর অধিকারটা আরও জোরাল করে নিলেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে জেকব বেথেল আউট হয়ে গেলেও দেবদত্ত পাড়িক্কলের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জেতা নিশ্চিত করলেন। তবে সেঞ্চুরি করলেও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেল না তাঁর। ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে আরসিবিকে কার্যত প্লে অফে তুলে দিলেন। আর কেকেআর শিবিরে আঁধার নামল।
