যুদ্ধের আঁচে জনজীবন বাদে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে খাদ্যের বাজারে। হু হু করে চড়তে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের দাম। সেটাই মধ্যবিত্ত জীবন সবচেয়ে বড় ধাক্কা। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। ঠিক যেমনটা হচ্ছে বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে। বা আরও বিশদে বললে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে রণদামামা বেজে ওঠায়। এর সরাসরি প্রভাব ভারতের উপর পড়েনি বললে ভুলই হয়। যুদ্ধের জেরে মার খাচ্ছে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য। চিন্তায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। বিদেশে ভারতের সুগন্ধী বাসমতী চালের চাহিদা প্রচুর। কিন্তু আপাতত রপ্তানি থমকে। ফলে আগামী দিনে লোকসানের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে যত বাসমতী চাল উৎপন্ন হয়, তার মধ্যে ৭২ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হয়। দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে তা অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাসমতী চালের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইরান এবং সৌদি আরব। এসব দেশে বিরিয়ানি তৈরিতে অপরিহার্য ভারতের সুগন্ধী চাল। এখন রমজান মাসে তার চাহিদা আরও বেশি থাকার কথা। কিন্তু তাল কেটে দিল আচমকা ইরানের উপর ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলা এবং সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের অকালমৃত্যু। পুরোদমে শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। তাতেই ভারতীয় কৃষকদের চিন্তা বাড়ল। তাঁদের আশঙ্কা, যুদ্ধের মাঝে রপ্তানি একেবারে থমকে তো যাবেই। আগাম দেওয়া বরাতও বাতিল হতে পারে। তাহলে তাঁদের সাড়ে সর্বনাশ! মোটা অঙ্কের ক্ষতি, যা অপূরণীয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে যত বাসমতী চাল উৎপন্ন হয়, তার মধ্যে ৭২ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হয়। দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে তা অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাসমতী চালের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইরান এবং সৌদি আরব। এসব দেশে বিরিয়ানি তৈরিতে অপরিহার্য ভারতের সুগন্ধী চাল।
পাঞ্জাবের বাসমতী চাল রপ্তানি সংস্থার কর্ণধার অশোক শেঠি জানাচ্ছেন, ''মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি আমাদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। কারণ, ওসব দেশে বিরিয়ানির চাহিদা বেশি থাকায় বাসমতী চালের এত কদর। বেশিরভাগ ব্যবসা হয় ধারে, অর্থাৎ আগে আমরা চাল পাঠাই, তারপর অর্থ পাই। এখনও পর্যন্ত চাল পাঠানোর পর অনেক টাকাই কৃষকরা পাননি। আর তাই আশঙ্কা হচ্ছে, বিক্রির টাকা আদৌ পাওয়া যাবে কি না। ইরান-সহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে হঠাৎ যুদ্ধ বেঁধে গেল, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখা যাচ্ছে।'' এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছেন অশোক শেঠি। কেন্দ্রের এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশনের মাধ্যমে কৃষকদের বিক্রির টাকা পাওয়া নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৬০ লক্ষের বেশি বাসমতী চাল রপ্তানি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। তাতে দেশ ৩৬,১৩৯ কোটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। এবার কী হবে, সেটাই চিন্তার।
