shono
Advertisement
Kerala BJP

কংগ্রেস না সিপিএম! কেরলে ত্রিশঙ্কু ফল হলে কাকে সমর্থন? কী ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি নেতা?

কেরলের দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনীতির ছক ভাঙতে এবার বদ্ধপরিকর বিজেপি। তাঁদের দাবি, এবার সে রাজ্যের যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে এলডিএফ বা ইউডিএফ কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।
Published By: Subhajit MandalPosted: 06:04 PM Apr 08, 2026Updated: 06:04 PM Apr 08, 2026

রাত পোহালেই কেরলে নির্বাচন। সম্মুখসমরে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। মালয়ালি রাজ্যের এই দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনীতির ছক ভাঙতে এবার বদ্ধপরিকর বিজেপি। তাঁদের দাবি, এবার সে রাজ্যের যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে এলডিএফ বা ইউডিএফ কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। বিজেপিই হবে কিংমেকার।

Advertisement

এমনিতে দক্ষিণের রাজ্যটিতে পদ্ম ফোটানোর চেষ্টা দীর্ঘদিনের। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা ২০১৪ সাল থেকে দক্ষিণে দাঁত ফোটানোর চেষ্টা করছেন। এ পর্যন্ত বিশেষ সাফল্য না এলেও লাগাতার ভোট বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের। বিজেপির আশা এবার এলডিএফ এবং ইউডিএফের বাইনারি থেকে কেরলকে মুক্ত করবেন তাঁরা। প্রায় ৪৮ শতাংশ সংখ্যালঘুর রাজ্যে যে একা এখনই ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়, সেটা ভালোই জানেন বিজেপি নেতারা। তাই বিজেপি চাইছে আপাতত কিংমেকার হতে।

কেরল বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা কে সুরেন্দ্রন বলছেন, "এবার নির্বাচনে এলডিএফ বা ইউডিএফ কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। আগামী দিনের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পুরোটাই নির্ভর করবে বিজেপির উপর।" সুরেন্দ্রনের বক্তব্য, কংগ্রেস বা সিপিএম কেউ কেরলের উন্নতি করতে পারবে না। রাজ্যের সিপিএম সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে, সেটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ কংগ্রেস। যেখানে যেখানে বিজেপি শক্তিশালী সেখানে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সুবিধা পাবে বিজেপিই।" কিন্তু প্রশ্ন হল, যদি শেষমেশ সত্যিই বিধানসভা ত্রিশঙ্কু হয়, এলডিএফ বা ইউডিএফ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে কাকে সমর্থন করবে বিজেপি? সুরেন্দ্রন এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর দিচ্ছেন না। তিনি বলছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে তাঁদের ছাড়া যে সরকার গঠন সম্ভব নয়, সেটা জোরাল সুরে বলে দিয়েছেন বিজেপি নেতা।

উল্লেখ্য, ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার। পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে শাসক বাম জোট ইস্তাহারে ৩ হাজার টাকা মাসিক পেনশন, ৫ লক্ষ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, প্রবীণ নাগরিকদের বর্ধিত সুরক্ষামূলক স্কিমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি বাম ইস্তাহারে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্কিল উন্নয়ন, কর্মীবাহিনীতে মহিলা অংশগ্রহণ বৃদ্ধির গ্যারান্টি। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের ম্যানিফেস্টো তৈরি হয়েছে 'ইন্দিরা গ্যারান্টি'র ভিত্তির ওপর। মহিলাদের নিখরচায় বাসযাত্রা, মাসিক ৩ হাজার টাকা পেনশন, ফ্রি স্বাস্থ্য বিমা, বিনা সুদে তরুণ শিল্পোদ্যোগীদের লোনের কথা রয়েছে তাদের ইস্তাহারে। অন্যদিকে বিজেপি-এনডিএ শিবির তাদের ইস্তাহারে কল্যাণমুখী প্রকল্পের সঙ্গে মিশিয়েছে ব্যাপক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি। তারাও প্রবীণ নাগরিকদের পাশাপাশি পরিবারের প্রধান কর্ত্রীদের মাসে ৩ হাজার টাকার পেনশন, বিনামূল্য রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার, মুদিখানা সামগ্রী, ওষুধ কেনার জন্য বিশেষ কার্ড, ঘরে ঘরে মাসে ২০ হাজার লিটার পর্যন্ত নিখরচায় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এইমস স্থাপন, আয়ুষ্মান ভারতের কভারেজ বাড়ানোর কথাও রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement