ক্ষমতায় আসার চার মাসের মধ্যে বেনজির টানাপোড়েনের সম্মুখীন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন। মহিলাদের নিয়ে এক বর্ষীয়ান মুসলিম ধর্মগুরুর করা বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় সতীশনকে চেপে ধরেছে রাজ্যের একাধিক মুসলিম সংগঠন। মুসলিম সংগঠনগুলির দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে ধর্মীয় ইস্যুতে মন্তব্য না করাই উচিত ছিল সতীশনের।
বিতর্কের সূত্রপাত, কেরলের ধর্মগুরু কন্ঠপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার নামের এক ধর্মগুরুর মন্তব্যে। গত সপ্তাহে ৯৫ বছর বয়সি ওই মৌলবি বলেন, "মেয়েদের ঘরবন্দি থাকাই দস্তুর। প্রকাশ্যে আসা উচিত নয়। মহিলাদের প্রকাশ্যে আসতে দিলে সমাজব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।" মৌলানা কন্ঠপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার কেরলের সবচেয়ে বর্ষীয়ান মুসলিম ধর্মগুরু। তাঁকে অনেকে দেশের গ্র্যান্ড মুফতিও বলে থাকেন। এ হেন ধর্মগুরুর ওই মন্তব্যের প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী।
ভিডি সতীশন বলে দেন, "১৯ শতকের চিন্তাভাবনা একবিংশ শতাব্দীতে এসে চলতে পারে না। এই ধরনের অধোগামী চিন্তাভাবনা ত্যাগ করা উচিত।" উদাহরণ তুলে ধরে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, "ইসলামেও মেয়েরা বরাবর স্বাধীন। হজরত মহম্মদের প্রথম স্ত্রী খাদিজা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর আরেক স্ত্রী আয়েসা যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি প্রধান কম্যান্ডার ছিলেন।" কেরলের মুখ্যমন্ত্রী সাফ বলে দেন, "আমরা প্রগতিশীল ভাবনায় বিশ্বাস করি। বিশ্বাস করি যে ঘর থেকে বেরিয়ে মেয়েদের সমাজের সবস্তরের সব কাজে অংশ নেওয়া উচিত।"
কেরলে মুসলিম ভোটের জোরে ক্ষমতায় আসা মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে প্রকাশ্যে ইসলামিক ধর্মগুরুর মন্তব্যের বিরোধিতা করলেন, অনেকে সেটার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু মুসলিম সমাজ থেকে সতীশনের ওই মন্তব্যের সমালোচনাই বেশি শোনা যাচ্ছে। একাধিক সংখ্যালঘু সংগঠনের পরামর্শ, মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের ধর্মীয় বিষয়ে নাক গলানো উচিত নয়। কেরলের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংগঠন সমস্ত কেরল জামেয়াতুল উলেমার প্রধান জিফ্রি মুথুকয়া থাঙ্গাল বলছেন, "শরিয়ৎ চিরন্তন। যদি কারও মনে হয়, এটা গ্রহণযোগ্য নয়, সেটা তাঁর সমস্যা। তিনি শরিয়ৎ না-ই মানতে পারেন। কিন্তু যারা দায়িত্বশীল পদে রয়েছে, তাঁদের এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।" বস্তুত, সতীশনের মন্তব্যে কেরলের মুসলিম সমাজের বহু মানুষ ক্ষুব্ধ। শেষে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মুখ্যমন্ত্রী মুসলিম ধর্মগুরুদের নিয়ে বৈঠকেও বসেছেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ হবে কী? সংশয় থাকছেই।
