shono
Advertisement
Kerala name change

মোদি-বিজয়নের 'বন্ধুত্বে'ই নামবদলে ছাড়পত্র পেল কেরল! রাম-বাম আঁতাঁতের অভিযোগ মমতার

পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে মোদির সখ্য নিয়ে গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। কংগ্রেসের অভিযোগ, সিপিএমের অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা বিজেপির বিরুদ্ধে যতটা সরব, বিজয়ন ততটা নন।
Published By: Subhajit MandalPosted: 07:26 PM Feb 24, 2026Updated: 07:26 PM Feb 24, 2026

কেরলের নামবদলের প্রস্তাব সে রাজ্যের বিধানসভায় পাশ হয়েছিল সেই ২০২৪ সালে। ভোটের মুখে আচমকা সেই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার একপ্রকার মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে দিল। আসলে এই নামবদলের ব্যাপারটা মালয়ালি অস্মিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এবং মালয়ালিদের দীর্ঘদিনের দাবি। সেই দাবি অকস্মাৎ পূরণ করে দিয়ে বিজেপি সে রাজ্যের 'ঘরের দল' হয়ে ওঠার পথে খানিক এগিয়ে গেল তাতে সংশয় নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আকস্মিক কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাম-বাম নৈকট্যের অভিযোগ উঠছে।

Advertisement

আসলে বাংলার সঙ্গেই কেরলে নির্বাচন। সে রাজ্যে মূল লড়াই সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের। ২০২১ সালে রীতি ভেঙে সে রাজ্যে পরপর দু'বার ক্ষমতায় ফেরে বামেরা। সমস্যা হল সেটার জেরে এবার ১০ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সিপিএমকে। ফলে ২০২৪ লোকসভায় সে রাজ্যে কার্যত 'ক্লিন সুইপ' করেছে ইউডিএফ। সদ্য পুর নির্বাচনেও একপেশেভাবে জিতেছে ইউডিএফ। কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজয়ন একপ্রকার অন্ধের যষ্টির মতো বিজেপিকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন। প্রকাশ্যে জোট না হলেও অঘোষিত সমঝোতা বা কৌশলগত সমঝোতার অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরেই উঠছে।

আসলে পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে মোদির সখ্য নিয়ে গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। কংগ্রেসের অভিযোগ, সিপিএমের অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা বিজেপির বিরুদ্ধে যতটা সরব, বিজয়ন ততটা নন। বরং তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলেন। এমনকী মোদির ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত গৌতম আদানির সঙ্গেও তাঁর সখ্য রয়েছে। কেরলে যে বিজেপি ক্রমশ বাড়ছে, সেটাও ওই বিজয়ন তাঁদের জন্য জায়গা ছাড়ছেন বলেই। আসলে সিপিএম চাইছে, রাজ্যের বিরোধী ভোটটা কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে ভাগ হয়ে যাক। তাতে প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া থাকা সত্ত্বেও সরকারে টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকবে। তাই কোথাও কোথাও বিজেপিকে ইচ্ছাকৃত প্রশ্রয়ও দেওয়া হচ্ছে। সবটাই অবশ্য কংগ্রেসের দাবি।

কেরলের নাম বদলের দাবি আকস্মিকভাবে পূরণ হয়ে যাওয়ায় সেই তত্ত্ব আরও জোরালো হচ্ছে। নিশ্চিতভাবেই এই নামবদলের সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব যৌথভাবে পাবে সিপিএম এবং বিজেপি। ফলে খানিকটা ব্যাকফুটে চলে যাবে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের অভিযোগ, রাম-বামের আঁতাঁতের জেরেই ভোটের মুখে নামবদল। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই একই সুরে অভিযোগ করেছেন। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “কেরলে বিজেপি এবং সিপিএম জোট গড়ে উঠছে বলে ওরা পেয়ে গেল।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement