ভোটের ঠিক আগে আগে কার্যত ঠান্ডা ঘরে চলে যাওয়া কেরলের নামবদলের প্রস্তাবে সায় দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এরপরই অবধারিত প্রশ্ন, কেরলের নামবদলের প্রস্তাবে সায় দিলেও বাংলার নাম বদলের এতদিনের দাবিতে কেন ছাড়পত্র দিচ্ছে নে মোদি সরকার? খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সাফ বলে দিচ্ছেন, "ওরা বাংলা বিরোধী বলেই আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করছে।"
আসলে দীর্ঘদিন আগেই নাম বদলাতে চেয়ে প্রস্তাব পাশ করেছে কেরল বিধানসভা। কেরলের বাম সরকারের মূল দাবি, রাজ্যের নাম পালটে রাখতে হবে কেরলম। কারণ এই নামে রাজ্যের প্রধান ভাষা মালয়ালমের ছোঁয়া রয়েছে। রাজ্যের নামের সঙ্গে সেখানকার ভাষা এবং সংস্কৃতির যোগও রয়েছে। এই মর্মে দু’বার প্রস্তাব পাশ করেছে কেরল বিধানসভা। প্রথমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছিল, নাম বদলের প্রস্তাবে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় রাখা প্রয়োজন। সেগুলি মেনেই ২০২৪ সালের ২৫ জুন পাশ হয় দ্বিতীয় প্রস্তাবটি। ভোটের মুখে আচমকা সেই প্রস্তাবে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এবার রাষ্ট্রপতি সেই প্রস্তাব বিল আকারে কেরল বিধানসভায় পাঠাবেন। সেটা পাশ হওয়ার পরই কেরলের নাম বদল সম্পন্ন হবে।
কেরলের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকৃতি পাওয়ায় দক্ষিণের ওই রাজ্যের বাসিন্দাদের শুভেচ্ছা জানিয়েও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশ্ন, বাংলার ক্ষেত্রে বঞ্চনা কেন? তাঁর কথায়, "আমরা কোনও রাজ্যের বিরোধী নই। কেরল পেয়েছে, ওদের ব্যাপার। ওদের শুভেচ্ছা। আমরাও দীর্ঘদিন ধরে একই দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের প্রস্তাব কেন মানা হচ্ছে না?" কেরলের নাম বদল নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, "আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। আমরা দুবার প্রস্তাব পাশ করেছিলাম। আমি নিজে দিল্লি গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি। ওরা বাংলা বিরোধী, বাংলার মনীষীদের বিরোধিতা করে বলেই নাম বদলে স্বীকৃতি দিল না।" মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট প্রশ্ন, "বাংলা বঞ্চিত হবে কেন?"
ভোটের মুখে কেরলের নামবদলের প্রস্তাবে সায় কেন্দ্র দেওয়ার নেপথ্যে কেরলের বাম সরকারের সঙ্গে বিজেপির নয়া সখ্য কাজ করে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মমতার। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, "কেরলে বিজেপি এবং সিপিএম জোট গড়ে উঠছে বলে ওরা পেয়ে গেল।"
