shono
Advertisement
Stock Market

AI সম্মেলনের পরই ১০০০ পয়েন্টের বেশি পড়ল সেনসেক্স, বিরাট ধস প্রযুক্তির বাজারে

শেয়ার বাজারের এই বিরাট পতনের নেপথ্যে রয়েছে দেশের প্রযুক্তি ক্ষেত্র। কার্যত ধসে গিয়েছে টেকনোলজি সেক্টরের শেয়ারগুলি।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 04:28 PM Feb 24, 2026Updated: 05:08 PM Feb 24, 2026

সোমবার গ্রিন সিগন্যালে ছুটলেও মঙ্গলে রীতিমতো রক্ত ঝরল দালাল স্ট্রিট। অনুমান করা হচ্ছিল, বিশ্বের ঘাড় থেকে মার্কিন শুল্কের খাঁড়া সরে যাওয়ার পর শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বগতিতে দৌড়বে। তবে সে আশায় জল ঢেলে ১০০০ পয়েন্টের বেশি পড়তে দেখা গেল সেনসেক্স। পাল্লা দিয়ে নেমেছে নিফটিও। শেয়ার বাজারের এই বিরাট পতনের নেপথ্যে রয়েছে দেশের প্রযুক্তি ক্ষেত্র। কার্যত ধসে গিয়েছে টেকনোলজি সেক্টরের শেয়ারগুলি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সদ্য দিল্লিতে শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন। তার ঠিক পরই এই ঘটনা।

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে বাজার খোলার পরই ধস নামতে দেখা যায় বাজারে। সেনসেক্স প্রায় ১০০ পয়েন্ট নিচে নামে। এরপর বেলা যত বাড়তে থাকে লাগাতার নিম্নমুখী হয় বাজার। বেলা ১২.৩০ নাগাদ সেনসেক্স ১০১০ পয়েন্ট নেমে পৌঁছয় ৮২৩৮৩-তে। বাজার বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সেই ছবিতে খুব একটা বদল হয়নি। দিন শেষে ১০৬৮.৭৪ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.২৮ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ৮২,২২৫.৯২তে। পাল্লা দিয়ে নেমেছে নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, দিন শেষে নিফটি ২৮৮.৩৫ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.১২ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৫,৪২৪.৬৫ তে। ব্যাঙ্ক নিফটিও নেমেছে ২১৬.৯৫ পয়েন্ট। বর্তমানে ব্যাঙ্ক নিফটি দাঁড়িয়ে রয়েছে ৬১,০৪৭.৩০তে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা টেকনোলজি সেক্টরের এলটিআইএম (-৬.৮৪%), টেকমহিন্দ্রা (-৬.৬৩%), এইচসিএলটেক (-৬.১০%), ইনফোসিস (-৩.৯২%), টিসিএস (-৩.৮৩%)-এর মতো শেয়ারগুলির। এই খারাপ অবস্থার মাঝেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে আদানি এনার্জি সলিউসন (+৩.৩২%), সাইমেন্স এনার্জি (+৩.২৪%), ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্প (+২.১২%), বন্ধন ব্যাঙ্ক (+৩.৯৭%)-এর মতো শেয়ারগুলি।

ধসের নেপথ্যে একাধিক কারণ তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হল, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। সম্প্রতি দিল্লিতে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, তার খুব বিশেষ প্রভাব পড়েনি বাকি বিশ্বের উপর।

শেয়ার বাজারের এই ধসের নেপথ্যে একাধিক কারণ তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হল, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। সম্প্রতি দিল্লিতে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, তার খুব বিশেষ প্রভাব পড়েনি বাকি বিশ্বের উপর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হল এমন এক প্রযুক্তি যা মানুষের দ্বারা করা কাজ সহজে সম্পাদন করে। সম্প্রতি মার্কিন এআই সংস্থা 'অ্যানথ্রপিক' এমন প্রযুক্তি এনেছে যা কোডিং, ডকুমেন্টেশন এবং ডেটা প্রক্রিয়াকরণের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে। এদিকে ভারতের আইটি সংস্থাগুলি বিশ্বব্যাপী এই ধরনেরই পরিষেবা দিয়ে থাকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এআই শক্তিশালী হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে ভারতীয় সংস্থাগুলির পরিষেবার চাহিদা হ্রাস পেতে পারে।

এর পাশাপাশি দ্বিতীয় বড় কারণ হল মার্কিন শুল্ক নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা। মার্কিন আদালতের নির্দেশের পরও বিশ্বের উপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় আমেরিকার শেয়ারে বিরাট পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গত কয়েকমাসে বিপুল টাকা তুলে নেওয়ার পর নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেছেন ঠিকই যদিও এর পরিমাণ যথেষ্ট কম। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী, শুধু ভারত নয় বর্তমানে বিশ্বের বাজারও বিশেষ স্থির নয়। মঙ্গলবার বিশ্বের বেশিরভাগ বাজারই নিচের দিকে নেমেছে। যার প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement