সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কয়েক দশক জুড়ে পৃথিবীর বুকে চলা মার্কিন ও রুশ আধিপত্যে ফাটল ধরিয়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে এশিয়া মহাদেশের দুই মহাশক্তি ভারত ও চিন। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ছে ক্ষমতার লড়াই। তবে চিরকালই বন্দুকে বিশ্বাসী চিনের ছলের অভাব নেই। পণ্ডিত নেহেরুর ‘পঞ্চশিলের’ দফারফা করে ১৯৬১ সালে ভারত আক্রমণ করে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছে লালফৌজ। তাই এবার তৈরি ভারতও। তাই এবার উদ্বিগ্ন বেজিং। শুধু তাই নয়, এই পাঁচটি কারণে রীতিমতো ভারতকে ভয় পায় চিন:
১) এফডিআই (ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট): বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চিনকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। তাই উদ্বিগ্ন চিন এবার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ টানতে উঠেপড়ে লেগেছে। সোমবার, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চিনা অর্থনীতিকে আরও উদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতের কাছে আরও পিছিয়ে পরার ভয়ে ‘মেড ইন চাইনা ২০২৫’ প্রকল্প শুরু করেছে বেজিং। ২০১৫ সালে চিনকে পেছনে ফেলে পরে ৬৩ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হয় ভারত।
(দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার লড়াইয়ের পর লখনউয়ে খতম এক আইএস জঙ্গি)
২) উৎপাদন ক্ষেত্র: ভারতের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন শক্তি ও প্রযুক্তিতে আতঙ্কিত চিন। ভারতের সুলভ শ্রম ও মানবসম্পদকে টেক্কা দিতে পারছে না কমিউনিস্ট দেশটি। চিনে ক্রমশ বাড়তে থাকা ‘লেবার কস্ট’ বাড়িয়ে তুলেছে কর্তাদের চিন্তা। চিনা সংবাদ সংস্থা ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং’-এ ভারতের অগ্রগতির কথা মেনে নেওয়া হয়েছে। যদিও ‘ব্যালান্স অফ ট্রেড’ চিনের পক্ষে, এবছর ভারতের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ।
৩) বুদ্ধিমত্তা: সম্প্রতি, মার্কিন সফটওয়্যার কোম্পানি ‘সিএ টেকনোলজিস’ চিনে থাকা প্রায় ৩০০ জনের একটি রিসার্চ টিমকে সরিয়ে নিয়েছে। তারপরই ওই কোম্পানি ভারতে এসে গঠন করেছে প্রায় ২০০০ গবেষকদের একটি দল। বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য এতেই প্রমাণিত। ‘হাই-টেক ট্যালেন্ট’ ও সুলভ মানবসম্পদের জন্য ক্রমাগত ভারতের দিকে ঝুঁকছে বিদেশী তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থাগুলি।
৪) প্রযুক্তি: একসঙ্গে ৩৭টি স্যাটেলাইট পাঠিয়ে রেকর্ড তৈরি করেছিল রাশিয়া। এবার একসঙ্গে ১০৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে সেই রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছে ভারত। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে লালচিন। প্রথম দিকে এই সাফল্যকে হেয় করার চেষ্টা করলেও, পরে ভারতের অগ্রগতি মানতে বাধ্য হয় চিনা সংবাদমাধ্যম। কম খরচে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রযুক্তিতে চিনের থেকে অনেক এগিয়ে ভারত। শুধু তাই নয়, গত বছর ‘মঙ্গলায়ন’-এর সাফল্য ইসরোর মুকুটে আরেকটি পালক। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে চিনের মঙ্গল গ্রহ অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল।
(যুদ্ধবাজ কিমকে রুখতে ‘মিসাইল সিস্টেম’ মোতায়েন করছে আমেরিকা)
৫) ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতা: দক্ষিণ চিন সাগরে বিতর্কিত নির্মাণের জেরে আমেরিকা-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চিন। যতই গর্জাক না কেন, ভারত ও আমেরিকার যৌথ সামরিক শক্তির মোকাবিলা করার সামর্থ্য লালফৌজের নেই, তা ভালই জানে বেজিং। সম্প্রতি, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর দ্বারা মার্কিন সেনাবাহিনীর রণতরী ও যুদ্ধবিমানগুলি ভারতের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে। এই ঘটনা রাতের ঘুম কেড়েছে বেজিংয়ের।
ডিআরএস নিয়মভঙ্গের জন্য স্মিথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, দাবি সৌরভের
The post এই পাঁচটি কারণে ভারতকে ভয় পায় চিন appeared first on Sangbad Pratidin.
