ভোটের মুখেই ঢালাও ভাতা বৃদ্ধি। কোনও সরকারি ঘোষণা ছাড়াই রাজ্যবাসীর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে সরকারি টাকা। দিন কয়েক আগেই ভোটমুখী তামিলনাড়ুর ‘খয়রাতি সংস্কৃতিকে’ তুলোধোনা করে সুপ্রিম কোর্ট। মূলত তামিলনাড়ুকে ওই তিরস্কার করা হলেও শীর্ষ আদালত দেশের সব রাজ্যের সরকারগুলিকেই নিশানা করছিল। কিন্তু তাতে যে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বিশেষ কিছু যা-ই আসে না, সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। এবার ভোটের বছর খানেক আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে নয়া প্রকল্প ঘোষণা করল পাঞ্জাবের আপ সরকার।
২০১৭ সালে পাঞ্জাবে ক্ষমতায় আসার আগে আম আদমি পার্টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের মাসে ১ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর প্রথম চার বছর সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে পড়েনি আপ সরকারের। ভোটের এক বছর আগে সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সেই প্রকল্প ঘোষণা করল ভগবন্ত মান সরকার।
এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের ১৮ বছর ঊর্ধ্ব প্রায় ৯৭ শতাংশ মহিলাকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে। বলা হয়েছে, মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা করে পাবেন। তবে তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য এই বরাদ্দের পরিমাণ রাখা হয়েছে মাসিক ১,৫০০ টাকা। সরকারি কর্মী, প্রাক্তন বিধায়ক-সাংসদ এবং আয়করদাতারা বাদে বাকি প্রায় সব মহিলাই এই সুবিধা পাবেন। এমনকী যাঁরা আগে থেকেই বার্ধক্য বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তাঁরাও এই নতুন প্রকল্পের টাকা পাবেন।
উল্লেখ্য, সরাসরি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে আর্থিক সাহায্য, এই প্রকল্পকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময় খয়রাতি নিয়ে চূড়ান্ত সমালোচিতও হতে হয়েছিল তাঁকে। এখন তাঁর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আদলেই একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা চালু হয়েছে। অন্য বিরোধী দলগুলিও ধীরে ধীরে সেই মডেল চালু করা শুরু করেছে।
