শীঘ্রই ভারত সফরে আসতে পারেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-কে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনিই জানান, মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা তো হবেই। পাশাপাশি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের প্রভাব কমাতে যে চতুর্দেশীয় (ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া) অক্ষ 'কোয়াড' গঠন করা হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
শুধু মার্কিন বিদেশসচিবই নন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর নিয়েও জল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন গোর। তিনি বলেছেন, "প্রেসিডেন্টও শীঘ্রই ভারত সফরে আসতে চাইছেন।" অনেকের মত, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে কার্যত তলানি ঠেকেছিল ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক। তার অন্যতম কারণ, ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ এবং দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি না-হওয়া। তবে চলতি বছরে সেই সম্পর্ক খানিক মসৃণ হয়েছে। ভারতীয় পণ্যে আমেরিকা শুল্ক কমানোর পর দু'দেশের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতাও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত সফর করলে তা তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ, এতে শুধু দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই মজবুত হবে না, বেজিং এবং তাদের অক্ষকেও কড়া বার্তা দেওয়া যাবে।
ভারত-মার্কিন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টানাপড়েনের জেরে কার্যত থমকে গিয়েছিল কোয়াডের কার্যকলাপ। সম্প্রতি এ বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, কোয়াড সংক্রান্ত কাজকর্ম জারি রয়েছে। চার দেশ নিজেদের মধ্যে যে সমন্বয় বজায় রেখে চলে, তা-ও মজবুত। তবুও সাম্প্রতিক কালে আমেরিকার নানা কার্যকলাপে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল কোয়াড। ভারতকে বাদ রেখে অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং ফিলিপিন্সের সঙ্গে 'স্কোয়াড'ও গড়েছিল ওয়াশিংটন। যদিও সেই কৌশল যে ফলপ্রসূ হয়নি, তা স্পষ্ট হয়ে গেল রুবিওর সফরে কোয়াড নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার খবরে।
