রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপি নিয়ে বরাবর সরব শাসকদল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ না হওয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারেন। তা যাতে না হয়, তাই নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে একাধিকবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এনিয়ে কথাবার্তাও বলেছেন। তবে তাঁদের আশঙ্কা যে সত্যি, কমিশন ও জেলাশাসককে লেখা বিএলও ঐক্য মঞ্চের চিঠি তা কিছুটা প্রমাণ করে দিল। ওই চিঠিতে বিএলও-দের অভিযোগ, বহু বৈধ ভোটারকে 'আনম্যাপড' করা হয়েছে। অথচ তাঁরা শুনানিতে নিজেদের যাবতীয় নথি জমা দিয়েছেন। তাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকা উচিত। আরও অভিযোগ, মৌখিকভাবে ইআরও-দের নির্দেশে এই কাজ হয়েছে।
জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে লেখা বিএলও-র চিঠি।ঈ
বৃহস্পতিবার জেলাশাসককে লেখা চিঠিতে বিএলও-রা জানিয়েছেন, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুরে বহু বৈধ ভোটারকে ERO-র নির্দেশে আনম্যাপ করা হয়েছে। এই মর্মে সিইও দপ্তরে নালিশ করেছে বিএলও ঐক্য মঞ্চের। বহু বৈধ ভোটার 'আনম্যাপড'-এর তালিকায়। যাদের নামের বানান ভুল অথবা আগের তালিকার সঙ্গে কোনও গরমিল আছে, ইআরও-দের নির্দেশে আনম্যাপ করা হয়েছে। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ম্যাপিংয়ের সময় লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি বা তথ্যগত অসংগতির কথা তাঁদের জানানো হয়নি। তাই এই আওতায় আসা অনেক বৈধ ভোটারই 'আনম্যাপড' হয়ে আছেন বলে দাবি বিএলও ঐক্য মঞ্চের।
কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বিএলও অনির্বাণ দে সরকার চিঠিতে সবিস্তারে জানিয়েছেন, কীভাবে আনম্যাপিংয়ের কাজ হয়েছে। চিঠিতে পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর এলাকায় আনম্যাপড ভোটার ১১১ জন, শুনানিতে গরহাজির ৪ জন এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের সংখ্যা ৭৫ জন। কিন্তু বিএলও-র দাবি, এঁরা সকলেই যথাযথ নথি দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ইআরও-র নির্দেশে আনম্যাপড থাকায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা। এই জটিলতা কাটাতে তাঁরা জেলাশাসক ও ডিইও বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছেন। আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা।
