সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিগ্রি বিতর্কে বড়সড় স্বস্তি পেয়ে গেলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মানহানির মামলায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে ওই মানহানি মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুজরাট হাই কোর্টকে চার সপ্তাহের মধ্যে ফয়সলা করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তাঁর ডিগ্রির প্রমাণ চেয়ে জাতীয় তথ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। কেজরির আবেদনের ভিত্তিতে চিফ ইনফরমেশন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারকে মোদির ডিগ্রি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। একই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গুজরাট ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারদেরও। গুজরাট হাই কোর্টের বিচারপতি বীরেন বৈষ্ণবের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
[আরও পড়ুন: ব্যাটে-বলে আগুন, আইসিসি-র বিচারে ডিসেম্বরের সেরা এই ভারতীয় ক্রিকেটার]
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুসারে ১৯৭৮ সালে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। মাস্টার্স করেছেন ১৯৮৩ সালে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। গুজরাট হাই কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার যুক্তি ছিল, একজন ডক্টরেট ও একজন শিক্ষাগত যোগ্যতাহীন ব্যক্তির মধ্যে গণতন্ত্রে কোনও বিভাজন করা হয় না। এই ক্ষেত্রে কোনও জনগণের স্বার্থও জড়িত নয়। উপরন্তু এতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার সঙ্গে তাঁর ডিগ্রির কোনও সম্পর্ক নেই।
[আরও পড়ুন: ‘আমার ব্যাটিং দেখার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন!’, টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে ধোনির প্রতি কৃতজ্ঞ ধ্রুব]
আবেদন খারিজ হওয়ার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়কেও কটাক্ষ করেন। যার পালটা গুজরাটের স্থানীয় একটি আদালতে মানহানির মামলা করে গুজরাট হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার। কেজরিওয়াল আবার গুজরাট হাই কোর্টে ওই মামলা স্থগিতের দাবিতে পালটা আবেদন করেন। কিন্তু গুজরাট হাই কোর্টেও সুরাহা না মেলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরিওয়াল এবং তাঁর দলের সাংসদ সঞ্জয় সিং। সুপ্রিম কোর্ট এদিন গুজরাটের নিম্ন আদালতের শুনানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে গুজরাট হাই কোর্টকেও জানিয়ে দিয়েছে ৪ সপ্তাহের মধ্যে কেজরিওয়ালের মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে।
