শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেন, তবে কফিনবন্দি হয়ে। তিনি ইরান যুদ্ধের বলি প্রথম ভারতীয় নাবিক ৩৩ বছরের দীক্ষিত সোলাঙ্কি (Dixit Solanki)। সোমবার ভোর ৪টে ১৫ নাগাদ ঘুমন্ত মুম্বই শহরে নামে একটি উড়ান। তাতেই ছিল তরুণ নাবিকের হিমশীতল কফিন। এভাবে ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পরিবারটির ৩৫ দিনের যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান ঘটল।
গত ২৮ মার্চ ইরানে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। ঠিক পরদিন ১ মার্চ ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমটি এমকেডি ভিয়োমে আছড়ে পড়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র। তাতেই মৃত্যু হয় দীক্ষিত সোলাঙ্কির। যদিও যুদ্ধের কারণে প্রাথমিক ভাবে মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। গত ৩৫ দিন ধরে বাঁচা-মরা, দেশে দেহ ফেরানো নিয়ে নানা টালবাহানা চলে। এই অবস্থায় শোকগ্রস্ত পরিবারটি সরকারি ভাষ্য নিয়ে বিশ্বাস হারায়। সোলাঙ্কি পরিবার আপাতত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া স্থগিত করেছে। শেষকৃত্যের আগে মৃতদেহটিকে চিহ্নিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে তারা।
সোলাঙ্কি পরিবারের বক্তব্য, ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানানো হয়েছে আরও এক কারণে। যেমন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উদ্ধার হওয়া অন্য নাবিকরা নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে ফিরলেও দীক্ষিতের ল্যাপটপ, ফোন এবং ব্যক্তিগত ডায়েরি উধাও হয়ে গিয়েছে। প্রথম থেকেই ছেলে দীক্ষিতের মৃত্যু নিয়ে শংসয় প্রকাশ করেছিলেন বাবা অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ১ মার্চের ঘটনার কিছুদিন পরে সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে শোকাহত কিন্তু দৃঢ়চেতা অমৃতলাল পুরো ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি জানান--- ঘরে ছেলের ছবি রয়েছে, সেখানে মালা ঝোলাইনি, যতক্ষণ না ওঁর দেহ নিজের চোখে দেখব, ততক্ষণ মানব না।
অমৃতলালের বক্তব্য, বারবার বলা হয়েছে জাহাজে হামলা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল তা জানানো হয়নি। সোলাঙ্কি পরিবার অভিযোগ করে, একজন নাবিকের মৃত্যুর পরেও মুখ খুলছিল না শিপিং কোম্পানি ভি শিপস ইন্ডিয়া। বাধ্য হয়ে গত সপ্তাহে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় পরিবারটি। শেষ পর্যন্ত আদালতের চাপে ওমানের উপকূল থেকে মুম্বই ফিরল তরুণ ভারতীয় নাবিক দীক্ষিত সোলঙ্কির ভারী কাঠের কফিন।
