মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হরমুজ প্রণালী। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে কূটনৈতিক মহল। ২০২০ সালের পর প্রথমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ১১০ টাকা পেরিয়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সোমবার রাজ্যসভায় ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। জ্বালানি তেল ইস্যুতে তিনি জানালেন, 'ভারতের উপভোক্তাদের স্বার্থরক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।'
সোমবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শংকর বলেন, "পশ্চিম এশিয়া ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান সংঘাতে সরবরাহে কোপ পড়ার পাশাপাশি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ভারতের জন্য এই সংঘাত যথেষ্ট উদ্বেগের।'' পাশাপাশি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "এই যুদ্ধে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হতে পারে, যা অর্থনৈতিক ভাবে একটি গুরুতর সমস্যা।" তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, "সরকার গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে এবং এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য যাবতীয় প্রভাব মূল্যায়ন করছে।" জয়শংকর আরও জানান, "ভারতের জাতীয় স্বার্থ, যার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা ও দেশের মানুষের কল্যাণই অগ্রাধিকার পাবে।"
"সরকার গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে এবং এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য যাবতীয় প্রভাব মূল্যায়ন করছে। ভারতের জাতীয় স্বার্থ, যার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা ও দেশের মানুষের কল্যাণই অগ্রাধিকার পাবে।"
এছাড়াও যুদ্ধ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে জয়শংকর বলেন, “আলোচনা ও কূটনীতি দুই তরফের উত্তেজনা হ্রাসের একমাত্র পথ। আমাদের সরকার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিবৃতি জারি করে এই যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা বিশ্বাস করি উত্তেজনা কমাতে সকলেরই সংলাপ ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করা উচিত।” ইরান যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া যাবতীয় সংকট পর্যালোচনার জন্য ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইরানের যুদ্ধ জাহাজকে ভারতের বন্দরে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিও এদিন তুলে ধরে জয়শংকর বলেন, গত ১ মার্চ ভারতের তরফে ইরানের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনটি ইরানি জাহাজের মধ্যে একটি কেরলের কোচি বন্দরে রয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানি জাহাজকে ভারতের তরফে আশ্রয় দেওয়ার জন্য দিল্লিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
