সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পণের জন্য দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে অপহরণ করেছিল দুই দুষ্কৃতী৷ পড়ুয়ার ফোন থেকে তার বাড়িতে জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল সে কথা৷ পুলিশকে জানালে হিতে বিপরীত হবে সে হুঁশিয়ারিও দেওয়া ছিল৷ কিন্তু কে জানত, ঘরের বউই হার মানাবে সবকিছুকে!
নির্দিষ্ট ঠিকানাতেই পৌঁছেছিল অপহৃত ছাত্রের বাড়ির লোকেরা৷ পুলিশের ভয়ে এমনিতেই পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল দুষ্কৃতীরা৷ পরিবারের সদস্যদের গাড়ি আসতে দেখে থমকে যায় তারা৷ নেমে আসে৷ এদিকে গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায় বাচ্চার মতো কাউকে৷ দুই দুষ্কৃতীই এতে হকচকিয়ে যায়৷ সেই সুযোগেই অপহৃত যুবকটিও হাত ছাড়িয়ে চলে আসার চেষ্টা করে৷ কিন্তু চমক আরও বাকি ছিল৷ গাড়ি থেকে যিনি নেমে এসেছিলেন তিনি আর কেউ নন ওই অপহৃতের বউদি৷ যিনি আবার জাতীয় স্তরের শুটারও বটে৷ নিজের লাইসেন্সড পিস্তল তখন তাঁর হাতে৷ দুই গুলিতে ততক্ষণে দুই দুষ্কৃতীকে ধরাশায়ী করে দিয়েছেন তিনি৷ যদিও প্রাণে মারেননি৷ পিছনেই ছিল পুলিশ৷ বাকি কাজটা তারাই করে৷
[ ‘ছেলেদের মধ্যে প্রথম কে?’ প্রশ্ন ঘুরিয়ে দিল অণ্বেষা-রক্ষারা ]
যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য৷ কিন্তু বাস্তবিকই এ কাজ সম্ভব করে তুলেছেন আয়েষা ফলক৷ জাতীয় স্তরের শুটার ও কোচ তিনি৷ পার্সের মধ্যে নিজের লাইসেন্সড পিস্তলটি সবসময় রাখেন৷ দেওরের ফোন যখন এসেছিল তখন সকলে ভেবেছিল মজা করছে৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ওই যুবক৷ ক্লাসশেষে ক্যাব চালিয়ে পকেট মানি উপার্জন করেন৷ গাড়ি চেয়েই দুই দুষ্কৃতী তাঁকে পাকড়াও করে৷ রুট ঘোরাতে বললে তিনি অস্বীকার করেন৷ তখন তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয়৷ ওই যুবকের পকেটে ছিল মোটে ১৫০ টাকা৷ হতাশ হয়ে তাঁর ফোন থেকেই বাড়িতে ফোন করে ২৫,০০০ টাকা চাওয়া হয়৷ এরপর পুলিশকে জানানো হয়৷ পুলিশ সাদা পোশাকে পাশে থাকার আশ্বাস দেয়৷ যদিও পুলিশের ভয়েই জায়গা পরিবর্তন করছিল দুষ্কৃতীরা৷ তবে যে ঘরে এরকম শুটার বউমা আছে সেখানে ভয় কি!
[ মন্ত্রী আসবেন হাসপাতালে, বের করে দেওয়া হল রোগীদের! ]
পুলিশ অবশ্য পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করেছে৷ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷ নিজেকে ও আত্মীয়কে বাঁচাতেই গুলি চালানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে৷ আহত হয়ে দুই দুষ্কৃতী পালানোর চেষ্টা করছিল, যদিও তাদের পাকড়াও করেছে পুলিশ৷
The post পিস্তল হাতে ফিল্মি কায়দায় অপহৃত দেওরকে উদ্ধার ‘শুটার’ বউদির appeared first on Sangbad Pratidin.
