হানিমুনে যেতেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নববধূর। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও খুনের চেষ্টা অভিযোগ তুললেন স্ত্রী। অভিযোগ, হানিমুনে গিয়ে পিরিয়ড শুরু হওয়ার পরই তাঁর উপর চড়াও হন স্বামী। শুরু হয় বেধড়ক মারধর। এমনকী তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। মহিলার চেঁচামেচি শুনে হোটেলের কর্মীরা দৌড়ে গিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় স্বামী ও শাশুড়ি-ননদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
নির্যাতিত ওই মহিলা উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গোরক্ষপুরের বাসিন্দা। অভিযোগকারী দাবি করেন, বিয়ের ৪৫ দিনের মাথায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে হানিমুনে গিয়েছিলে ওই দম্পতি। অভিযোগ, বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়ির পরিবারের লোকজন পণ হিসেবে একাধিক ব্রান্ডেড জিনিসপত্র দাবি করেছিলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, তাঁর বাবা বিয়ের সময় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, একটি গাড়ি ও ৪০ লক্ষ টাকার সামগ্রী পণ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে সেই সমস্ত জিনিস নিয়ে তাঁকে নিয়মিত শ্বশুরবাড়ি থেকে কটূক্তি শুনতে হয় বলে অভিযোগ।
মহিলা বলেন, ঋতুস্রাবের বিষয়টি আগে কেন জানানো হয়নি—এই প্রশ্ন তুলে তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর শুরু করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, পরে তাঁর স্বামী তাঁর বাবাকে ফোন করে দিল্লিতে এসে তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন এবং জানান যে তিনি আর তাঁর সঙ্গে সংসার করতে চান না।
মহিলা জানান, বিয়ের একমাস পর হানিমুনে গেলে তাঁর পিরিয়ড শুরু হয়। অভিযোগ, তাঁর প্রচণ্ড পেটে যন্ত্রণা ও রক্তপাত হচ্ছিল। তিনি বলেন, ঋতুস্রাবের বিষয়টি আগে কেন জানানো হয়নি—এই প্রশ্ন তুলে তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর শুরু করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, পরে তাঁর স্বামী তাঁর বাবাকে ফোন করে দিল্লিতে এসে তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন এবং জানান যে তিনি আর তাঁর সঙ্গে সংসার করতে চান না।
ওই মহিলা জানান, হানিমুনের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গিয়ে তাঁর শাশুড়ি ও ননদকে সমস্ত ঘটনা জানান। এরপর তাঁর পাশে দাঁড়ানোর বদলে ক্রমাগত তাঁকে মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। রামগড়তাল থানার এসএইচও শ্যামা নন্দ রাই জানান, ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট ওই মহিলার স্বামী, তাঁর মা ও বোনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
