shono
Advertisement
Noida Accident

৭০ ফুট গর্তে পড়ে মৃত্যু তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের, নয়ডার সিইওকে বহিষ্কার, সিট গঠন যোগীর

উঠছে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ। বাবার চোখের সামনে মৃত্যু হয় ছেলের!
Published By: Kishore GhoshPosted: 08:43 PM Jan 19, 2026Updated: 08:50 PM Jan 19, 2026

উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় গাড়ি দুর্ঘটনায় জল জমা গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের যুবকের। এই ঘটনায় নয়ডা প্রশাসনের সিইও এম লোকশকে বরখাস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে ওই কমিটি।

Advertisement

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিটের নেতত্ব দেবেন মিরাটের ডিভিশনার কমিশনার। বাকিরা হলেন মিরাট জোনের এডিজি এবং পিডাব্লুডি চিফ ইঞ্জিনিয়ার। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে নয়ডায় ঘন কুয়াশার জেরে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খনন করা ৭০ ফুটের গর্তে পড়ে মৃত্যু হয় যুবরাজ মেহতার। গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। রাতে অফিস থেকে নিজেই এসইউভি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন যুবরাজ। তখন ঘন কুয়াশায় রাস্তায় দৃশ্যমানতা প্রায় ছিল না। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে বাঁক ঘুরতে গিয়ে বিরাট গর্তে পড়ে যায় গাড়িটি।

কাদাজল ভরা গর্তের মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে পড়ে গাড়িটি। নিজেকে বাঁচাতে দ্রুত চালকের আসন থেকে বেড়িয়ে গাড়ির ছাদে উঠে দাঁড়ান যুবরাজ। কিন্তু তিনি সাঁতার জানতেন না ফলে জলে নামতে পারেননি। ওই অবস্থায় বাবাকে ফোন করে বলেন, “বাবা, আমি জল ভরা একটি গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছি। আমি ডুবে যাচ্ছি। প্লিজ, এখানে এসে আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।” যদিও গাড়িটি বেশিক্ষণ যুবরাজের ভার নিতে পারেনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।

অথচ মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সেখানে পৌঁছান যুবরাজের বাবা রাজ মেহতা এবং পুলিশের একটি উদ্ধারকারী দল। তার আগে অবশ্য এক পথচারী যুবরাজকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জলের মাঝখানে যেতে পারেননি তিনিও। নিজের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের নিজের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করেন। সাহায্য চেয়ে মরিয়া চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর গলা শুনতে পেলেও ঘন কুয়াশার কারণে গর্তের ভিতরে তাঁকে দেখতে পাননি উদ্ধারকারীরা।

পুলিশকর্মীরা গহ্বরে ক্রেন নামিয়েও উদ্ধার করতে সক্ষম হননি যুবরাজকে। যদিও কোনও পুলিশকর্মী বিপজ্জনক গর্তে নামেননি বলেই অভিযোগ। পরে খবর দেওয়া রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। অভিযোগ, তাঁদের কাছেও উপযুক্ত সরঞ্জাম ছিল না। ধীরে ধীরে মৃদু হতে থাকে যুবরাজের গলার স্বর। কার্যত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছেলেকে মরতে দেখেন বাবা! অনেক পরে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। এর পরেও অবশ্য দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি রাতে। পরদিন সকালের আলোয় গভীর গর্ত থেকে যুবরাজ মেহতার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এখন অভিযোগ উঠছে, ওই গর্তের পাশে কোনও রেলিং বা বিপদসংকেত ছিল না। এর ফলেই দুর্ঘটনা ঘটে গেল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement