shono
Advertisement
Transgender Bill

রূপান্তরকামী কে, ঠিক করবে রাষ্ট্র! বিরোধিতার মাঝে আইনে পরিণত বিতর্কিত বিল

আইনে পরিণত হল ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার সংক্রান্ত সংশোধনী বিল।
Published By: Kishore GhoshPosted: 05:05 PM Mar 31, 2026Updated: 05:28 PM Mar 31, 2026

বিরোধী পক্ষের প্রবল আপত্তি উড়িয়ে আইনে পরিণত হল ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার সংক্রান্ত সংশোধনী বিল (Transgender Persons (Protection of Rights) Amendment Bill, 2026)। বিরোধী শূন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির অপেক্ষা ছিল। বিরোধিতার মাঝে সোমবার রূপান্তরকামী ব্যক্তির (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল ২০২৬ -এ স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। এর ফলে আইনে পরিণত হল বিলটি। এবার কেন্দ্র কর্তৃক বিজ্ঞাপিত একটি তারিখে বিতর্কিত আইনটি কার্যকর হবে দেশে।

Advertisement

মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ হওয়ার পর বুধবার রাজ্যসভায় বিলটিকে পেশ করা হয়েছিল। ডিএমকে সাংসদ তিরুচি শিবা বিলটিকে বিবেচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। লোকসভার মতোই রাজ্যসভাতেও বিলটি ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে যায়। বিরোধী আপত্তি উড়িয়ে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নমন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার দাবি করেন, এই বিল আসলে সমাজের সব অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা। যারা শুধু জৈবিক কারণে বৈষম্যের শিকার হন, তাঁদের সুরক্ষা দেবে এই বিল।” যদিও বিলটি যেদিন সংসদে বাধা টপকায় সেদিনই সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত কমিটি সেটিকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছিল। আইনটি নিয়ে আপত্তি ঠিক কোথায়?

আইনটি নিয়ে আপত্তি ঠিক কোথায়?

সংশোধিত আইন অনুসারে কোনও ব্যক্তি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নিজেকে রূপান্তরকামী ঘোষণা করতে পারবেন না। রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার তকমা পেতে গেলে মেডিক‍্যাল সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। বিলের এই বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। কে বা কারা ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তিকে ‘রূপান্তরকামী’ শংসাপত্র দেবেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ট্রান্সজেন্ডারদের একাধিক সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সংশোধিত আইন আপত্তি করলেও বারেবারে পালটা যুক্তি দিয়েছে কেন্দ্র। 

মন্ত্রকের বক্তব্য, রূপান্তরকামী হিসেবে কারা পরিচিত হবেন তার কোনও সংজ্ঞা নেই। ফলে ভুয়ো রূপান্তরকামীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রকৃত রূপান্তরকামীরা বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধা পেতে। এই আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে জরিমানার পাশাপাশি সর্বোচ্চ শাস্তি দু'বছর থেকে বাড়িয়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের এই নয়া আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। যদিও সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে আইনের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পরই বিভিন্ন ট্রান্সজেন্ডার সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আইনটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সেটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়ে গেল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement