ফর্ম ৬ নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি! এক ব্যক্তি ব্যাগ ভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে ঢুকেছে ইসি অফিসে। অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। পালটা অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। এবার প্রচুর ফর্ম ৬ সিইও দপ্তরে জমা করা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল হেয়ার স্টিট্র থানায়। অভিযোগ দায়ের করেছেন আইনজীবী তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।
বৈশ্বানরের আরও অভিযোগ, রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি কর্মী সঞ্জয় দাস ও নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি কর্মী কুন্দন সিং নামে দুই ব্যক্তিকে অনেক ফর্ম ৬ নিয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। এদের মধ্যে কুন্দন সিং নির্বাচনী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিইও-কে লিখিত আবেদন করেছেন বলেও অভিযোগ। গোটা ঘটনার তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন বৈশ্বানর।
আইনজীবী বৈশ্বানর তাঁর অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, ৩০ মার্চ বিজেপির কর্মীরা প্রচুর সংখ্যায় ফর্ম ৬ (ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার আবেদনপত্র) সিইও দপ্তরে জমা দিয়েছেন। যা বিভিন্ন সংবাদমাধম্যের খবরে দেখা গিয়েছে। তাঁর দাবি, ফর্ম ৬ কোনও ব্যক্তি অনলাইন বা অফলাইনে পূরণ করতে পারেন। ইআরও বা এইআরও সেগুলি খতিয়ে দেখেন। আবেদনকারী 'যোগ্য' হলে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনেকেই সেই ফর্ম ফিলআপ করে জমা দিচ্ছেন। যা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু কোনও বিজেপিকর্মী এই ভাবে ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনের কাছে জমা দিতে পারেন না বলে দাবি তাঁর। অভিযোগ, হাজার হাজার ফর্ম ৬-এর আবেদনপত্র জমা দেওয়ার এই পদ্ধতিটি নজিরবিহীন। এটি বেআইনি। তাঁর আরও অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছে
বৈশ্বানরের আরও অভিযোগ, রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি কর্মী সঞ্জয় দাস ও নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি কর্মী কুন্দন সিং নামে দুই ব্যক্তিকে অনেক ফর্ম ৬ নিয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। এদের মধ্যে কুন্দন সিং নির্বাচনী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিইও-কে লিখিত আবেদন করেছেন বলেও অভিযোগ। গোটা ঘটনার তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন বৈশ্বানর।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানো হচ্ছে। এই অভিযোগ জানিয়ে মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে মমতা লেখেন, ‘বাংলার ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তা হলে তা অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক কাজ’। কমিশনকে ‘নিরপেক্ষ’ভাবে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে মমতা উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলায় প্রচুর ফর্ম-৬ জমা দিচ্ছেন বিজেপি এজেন্টরা। ভোটার তালিকায় নাম তোলার রুটিন প্রক্রিয়া অনুযায়ী যা বৈধ নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।'
প্রসঙ্গত, এই অভিযোগ তুলে সোমবারই নির্বাচন কমিশনের কলকাতার দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “বস্তা ভর্তি ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনে ঢুকেছিলেন কয়েকজন। আর তা কমিশনের দপ্তরেই পেটি করে করে রাখা হয়েছে। ৬-৭ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ অবৈধভাবে জমা পড়েছে। যাঁদের বিহার, উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ভোটারের নামে এই ফর্ম ৬ জমা পড়েছে।”
মঙ্গলবারই অবস্থান স্পষ্ট করে সাংবাদিক বৈঠকে করেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। প্রবল বিতর্কের মাঝে সাফাইয়ের সুরে তিনি জানান, “ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য সারা বছরই ফর্ম ৬ দেওয়া যায়। আমি নতুন ভোটারের কথা বলছি। কে, ক’টা ফর্ম দেবে তার নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম নেই।” পাশাপাশি তৃণমূলের অভিযোগ ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ উড়িয়ে মনোজ বলেন, “সিইও দপ্তরে এমন কোনও সফটওয়্যার নেই, যাতে নাম তোলা বা বাদ দেওয়া যায়। কারও বিরুদ্ধে ভুয়ো ভোটার হওয়ার অভিযোগ উঠলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট অফিসাররা ভেরিফিকেশন করেন, সেই রিপোর্ট জমা পড়ে কমিশনে।” তারপরই বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল, হেয়ার স্ট্রিট থানায়।
